বর্ষার শুরুতেই বিপদসীমা ছুঁইছুঁই তিস্তা! উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জলস্তর

বর্ষার আগমনের সঙ্গেই উত্তরের লাইফলাইন তিস্তা নদী তার রুদ্রমূর্তি ধারণ করতে শুরু করেছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বর্ষণের প্রভাবে জলপাইগুড়ির তিস্তা নদীতে জলস্তর দ্রুতগতিতে বেড়ে বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বুধবার রাত থেকেই মেখলিগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় জারি করা হয়েছিল হলুদ সতর্কতা। যদিও বৃহস্পতিবার সকালে সাময়িকভাবে তা প্রত্যাহার করা হয়, তবে প্রশাসনের আশঙ্কা, সন্ধ্যার পর ফের পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সেচ দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পাহাড়ে বৃষ্টি ও কৃষকদের আতঙ্ক
সিকিম ও উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টির জল গজলডোবা ব্যারেজ হয়ে সমতলের তিস্তায় আছড়ে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় প্রমাদ গুনছেন নদী তীরবর্তী চরের কৃষকরা। ভুট্টা ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় তড়িঘড়ি ফসল ঘরে তোলার তোড়জোড় শুরু করেছেন তারা। চলতি বছর বর্ষার আগেই প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলায়, যা নদী বাঁধগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেচ দপ্তর সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি এড়াতে নদী বাঁধগুলোর ওপর নজর রাখার জন্য কুড়িটিরও বেশি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার আগেই সেচ দপ্তরের এই সক্রিয়তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলপাইগুড়ি ও মেখলিগঞ্জসহ সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষকে নদীর পাড় থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে সতর্ক করা হচ্ছে।