রাতারাতি দলবদল! ‘তোলাবাজ’ তৃণমূল নেতাকে সবুজ আবির মাখিয়ে তাড়াল বিজেপি

বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে প্রবল অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের অন্দরে যেমন গৃহদাহ ও দলত্যাগের হিড়িক পড়েছে, তেমনই অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য একশ্রেণির বিতর্কিত নেতার মরিয়া চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। নিজেদের অপকর্ম ও দুর্নীতি আড়াল করতে রাতারাতি রং বদলের এমনই এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল আসানসোল। ক্ষমতার লোভে আদর্শ বিসর্জন দিয়ে দলবদল করতে যাওয়া এক স্থানীয় তৃণমূল নেতাকে যেভাবে বিজেপি কার্যালয় থেকে ফেরত পাঠানো হলো, তা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভোলবদলের ব্যর্থ চেষ্টা
বারাবনি বিধানসভার মাইথন লেফ্ট ব্যাঙ্ক অঞ্চলে একসম দাপট ছিল তৃণমূল নেতা বিজয় সিংয়ের। কিন্তু কয়েকমাস আগে তাঁর তোলাবাজির একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজের পিঠ বাঁচাতে ও আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচতে তিনি গেরুয়া আবির মেখে বিজেপি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অনুগামীদের নিয়ে তিনি সটান হাজির হন আসানসোলের বিজেপি পার্টি অফিসে। উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় জনতা পার্টিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করা। কিন্তু সেখানে তাঁকে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়।
আদর্শহীনদের স্থান নেই
বিজেপি পার্টি অফিসে পৌঁছানোর পর বারাবনির বিজেপি বিধায়কের ভাই তথা দলের নেতা অভিজিৎ রায়ের মুখোমুখি হন বিজয় সিং ও তাঁর দলবল। কিন্তু দলবদলুদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন বিজেপি নেতৃত্ব। সুবিধাবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের দলে নিয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে নারাজ তারা। ফলস্বরূপ, বিজয় সিংকে দলে নেওয়া তো দূরের কথা, তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়। এরপর প্রতীকী হিসেবে ওই তৃণমূল নেতার মুখে ও গায়ে সবুজ আবির মাখিয়ে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েন ওই বিতর্কিত তৃণমূল নেতা এবং কোনো মন্তব্য না করেই তাঁকে অফিস ছাড়তে হয়।
এই ঘটনার পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতবদল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের নিজেদের বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা। তবে এই কড়া পদক্ষেপের ফলে বারাবনির সালানপুর ব্লকের আদি ও নিষ্ঠাবান বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক খুশির হাওয়া বইছে। দলবদল করতে চাওয়া অপরাধীদের প্রতি এই জিরো টলারেন্স নীতি আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও রাজনৈতিক দলগুলোর দলবদল সংক্রান্ত নীতিকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।