কলকাতা ফিরেই সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

দিল্লি সফর শেষে আজই কলকাতায় ফিরছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত ‘সই-কাণ্ডে’ সিআইডির তলব পেয়ে তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পরপরই গোয়েন্দা দপ্তরে হাজিরা দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতের দেওয়া ১৪ দিনের রক্ষাকবচ থাকলেও, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিআইডির বেঁধে দেওয়া ডেডলাইনের মধ্যেই তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
বিধায়কদের অনুপস্থিতিতে সই ও অস্বস্তিতে দল
মূল অভিযোগটি দানা বেঁধেছে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, বিধায়কদের অনুপস্থিতিতেই তাঁদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং রেজোলিউশনের কপিতেও গরমিল রয়েছে। বিশেষ করে ‘ব্যাক ডেটে’ সই করানোর বিষয়টি নিয়ে সিআইডি তদন্তে নেমেছে। এই ঘটনায় আগেই তাঁকে একাধিকবার নোটিস পাঠানো হয়েছে। দলের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের ভূমিকা এবং অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েই মূলত সিআইডি তাদের জিজ্ঞাসাবাদের তালিকা প্রস্তুত করেছে।
তলবি নোটিসে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে
তদন্তের স্বার্থে সিআইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ১৫টি বিশেষ প্রশ্ন রাখতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হলো—বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা ঠিক কী ছিল, বিধায়কদের অনুপস্থিতিতে কেন সই নেওয়া হলো এবং রেজোলিউশনের কপিতে কেনই বা ব্যাক ডেট ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি, বৈঠকের কার্যবিবরণী, চেয়ারপার্সনের ভূমিকা এবং স্বাক্ষর না মেলার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়েও তাঁকে জেরা করা হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিআইডির এই জিজ্ঞাসাবাদের ওপর ভিত্তি করেই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে। তাই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের আজকের হাজিরা রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।