তৃণমূলে মহাবিদ্রোহ! অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্য’ নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দল ছাড়ার হুঁশিয়ারি কল্যাণের
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/08/kalyan-abhi-2025-08-08-15-30-14.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর এবার ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের বিদ্রোহ চরম আকার ধারণ করল। দলের একের পর এক সংকটে যিনি সবসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছেন, সেই বর্ষীয়ান সাংসদ তথা প্রখ্যাত আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এমনকি অভিষেকের ‘অসহনীয় দম্ভ’ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল ছাড়ারও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সই জাল মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ছিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আজই অভিষেককে ভবানী ভবনে সিআইডি-র দফতরে হাজিরা দিতে হবে এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করলেই কেবল আইনি রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। কিন্তু এই শুনানির ঠিক আগেই আকস্মিকভাবে অভিষেকের মামলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর পরপরই বিস্ফোরক ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাপরে, এই মানুষটার কী ঔদ্ধত্য! আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সব বলব। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলে থাকলে আমি আর এই দলে থাকব কিনা, তা এবার ভেবে দেখতে হবে। এত ঔদ্ধত্য আমি নিতে পারছি না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, কল্যাণের এই অবস্থান তৃণমূলের অন্দরে এক মহাসংকট তৈরি করল। যখন দলের গরিষ্ঠ সংখ্যক সাংসদ ও বিধায়ক কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিট থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে বিধানসভায় পৃথক ব্লক তৈরির আবেদন জানাচ্ছেন, তখনও কল্যাণ মমতাপন্থী হিসেবে অনড় ছিলেন। কিন্তু ভাইপোর আচরণের জেরে তাঁর ওপরও যে প্রবল মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তা আজ স্পষ্ট হয়ে গেল।
কেবল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, তৃণমূলের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, সাংসদ ও শীর্ষস্তরের নেতারা এখন প্রকাশ্যেই অভিষেকের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলছেন। বিক্ষুব্ধ নেতাদের দাবি, ক্যামাক স্ট্রিটের কর্পোরেট অফিসে ডেকে প্রবীণ নেতাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হতো এবং বহু সময় দেখা না করেই অপমানিত হয়ে ফিরতে হতো। ভোটের ফল প্রকাশের পর সেই পুঞ্জীভূত অপমানই এখন আগ্নেয়গিরির মতো ফাটতে শুরু করেছে শাসকদলের অন্দরে। শ্রীরামপুরের এই হেভিওয়েট নেতার চরম আলটিমেটামের পর তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার।