মাটি খুঁড়তেই বেরোল কোটি কোটি টাকার ওষুধ! অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে তোলপাড় ডায়মন্ড হারবার

ডায়মন্ড হারবার: মাটি খুঁড়তেই থরে থরে বেরিয়ে এল কোটি কোটি টাকার ওষুধ! আর সেইসব ওষুধের গায়ে লাগানো তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’-এর লোগো। বুধবার ডায়মন্ড হারবারের সরিষার হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই জোরালো ধাক্কা খেল বহু চর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’। ঘটনার নেপথ্যে বড়সড় কোনো দুর্নীতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার হিঞ্চেবেড়িয়া এলাকায় জেসিবি (JCB) দিয়ে মাটি খুঁড়তেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ ওষুধের কার্টন। উদ্ধার হওয়া এই ওষুধগুলির বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু এত টাকার জীবনদায়ী ওষুধ কেন এভাবে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগের তির স্থানীয় মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামীম আহমেদের দিকে। বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য আসা বিপুল পরিমাণ ওষুধ চুরি করা হয়েছিল। এখন সেই পাপ ও দুর্নীতি ঢাকতেই তড়িঘড়ি মেয়াদের মধ্যেই থাকা কোটি কোটি টাকার ওষুধ মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয়েছে।
পাল্টা সাফাই দিয়েছে ঘাসফুল শিবিরও। তৃণমূলের দাবি, বিরোধীদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উদ্ধার হওয়া ওই ওষুধগুলি আসলে মেয়াদ উত্তীর্ণ (Expired) হয়ে গিয়েছিল, তাই সেগুলি নিয়ম মেনে নষ্ট করা হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, করোনাকালে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে সাধারণ মানুষকে নিখরচায় চিকিৎসা ও ওষুধ পৌঁছে দিতে চালু হয়েছিল এই ‘সেবাশ্রয়’ শিবির। পরবর্তীকালে যা ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ হিসেবে রাজ্য রাজনীতিতে সাড়া ফেলেছিল। সেই সাধের প্রকল্প নিয়েই এবার দুর্নীতির অভিযোগে সরব বিরোধীরা। উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলোর মেয়াদ সত্যিই শেষ হয়েছিল নাকি দুর্নীতি ঢাকতে এই কাণ্ড, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।