সেনা জওয়ানের স্ত্রীকে মন দিল ১৯-এর যুবক! পরকীয়ার কাঁটা সরাতে শ্বশুর ও স্বামীকে পুড়িয়ে মারল যুগল

সেনা জওয়ানের স্ত্রীকে মন দিল ১৯-এর যুবক! পরকীয়ার কাঁটা সরাতে শ্বশুর ও স্বামীকে পুড়িয়ে মারল যুগল

কৃষ্ণগিরি: তামিলনাড়ুর কৃষ্ণগিরি জেলার রায়কোট্টাই রোডের ধারে আধ কিলোমিটার ব্যবধানে উদ্ধার হওয়া দুটি অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তিরা হলেন পালকুড়ি এলাকার বাসিন্দা সেনা জওয়ান মহেশ কুমার (৩৬) এবং তাঁর বৃদ্ধ বাবা চেল্লাপ্পান (৬৪)।

সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার কারণে মহেশ কুমারকে বছরের বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। এই সুযোগেই তাঁর স্ত্রী ভানুপ্রিয়া (২৯) পাশের মেলকোট্টায় গ্রামের বাসিন্দা পূবরাসন (১৯) নামের এক তরুণের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি মহেশবাবু বাড়ি ফিরলে এই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি তাঁর নজরে আসে এবং তিনি এতে আপত্তি জানান। নিজেদের প্রেমের পথে কাঁটা সরাতেই ভানুপ্রিয়া এবং পূবরাসন মিলে মহেশ কুমারকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ভয়ঙ্কর ছক কষে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক রাতে ওই যুগল ধারালো অস্ত্র নিয়ে আচমকা মহেশ কুমার এবং তাঁর বাবা চেল্লাপ্পানের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁদের নৃশংসভাবে খুন করে। এরপর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মৃতদেহ দুটিকে বাইকে চাপিয়ে একটি নির্জন রাস্তার ধারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পেট্রোল-ডিজেল ঢেলে এবং নারকেল পাতা দিয়ে ঢেকে দেহ দুটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ধরা পড়ার ভয়ে আধ কিলোমিটার দূরত্বে আলাদা আলাদা করে দেহ দুটি পুড়িয়ে তারা চম্পট দেয়।

তবে শেষরক্ষা হয়নি। ঘটনার তদন্তে নেমে তালুক থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য সূত্র ধরে দ্রুত কিনারা করে। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভানুপ্রিয়া ও তার প্রেমিক পূবরাসনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় ধৃতরা নিজেদের অপরাধ কবুল করেছে। জেলা শাসকের নির্দেশে ধৃতদের বিরুদ্ধে কড়া ‘গুন্ডা অ্যাক্ট’-এ মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রেমিক পূবরাসনকে সালেম সেন্ট্রাল জেলে এবং স্ত্রী ভানুপ্রিয়াকে কোয়েম্বাটুরের মহিলা জেলে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *