১৫০ ফুটের খুপরি ঘর থেকে কোটি টাকার ফ্ল্যাট! সবজিওয়ালার ছেলের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প হার মানাবে সিনেমাকেও

মুম্বই: কঠিন পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছেশক্তি থাকলে যে ভাগ্যের চাকা ঘোরানো সম্ভব, তা আবারও প্রমাণ করে দেখালেন এক যুবক। এটি কোনো লটারি পাওয়ার গল্প নয়, বরং এক চরম লড়াইয়ের রূপকথা। মাত্র ১৫ চাকার একটি খুপরি ঘর থেকে উঠে এসে আজ কোটি টাকার সাম্রাজ্য খাড়া করেছেন মুম্বইয়ের অভিষেক বৈশ্য।
মুম্বইয়ের ভিক্রোলি এলাকার মাত্র ১৫০ বর্গফুটের একটি ছোট্ট ঘরে বাবা-মায়ের সাথে থাকতেন অভিষেক। চারজনের সেই পরিবারে ছিল না কোনো পৈতৃক সম্পত্তি। বাবা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে সবজি বিক্রি করে সংসার চালাতেন। কোনোদিন ২০০ টাকা আয় হতো, তো কোনোদিন ১০০০ টাকা। মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা রোজগার করাই ছিল ওই পরিবারের কাছে এক বিরাট যুদ্ধ।
ভোরে সবজির বাজার, মাঝরাতে পড়াশোনা:
স্কুলজীবন থেকেই ভোরবেলা বাবার সাথে পাইকারি বাজারে যেতেন অভিষেক। সবজির গাড়ি টানা থেকে শুরু করে মালপত্র গোছানো—সব কাজই করতেন নিজের হাতে। কলেজে পড়ার সময়ও বাবার পাশে দাঁড়াতে ভোলেননি। তবে এর মধ্যেই নিজের স্বপ্নকে মরতে দেননি তিনি। কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু করেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি (CA) পরীক্ষার প্রস্তুতি। ভোরবেলা বাবার কাজে সাহায্য করা, তারপর কলেজ এবং রাতে বাড়ি ফিরে মাঝরাত পর্যন্ত চলত সিএ-র পড়াশোনা। পরীক্ষার শেষ ৩-৪ মাস দিন-রাত এক করে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছিলেন অভিষেক।
বিদেশ পাড়ি ও সাফল্যের শিখর:
কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলল হাতেনাতে। প্রথমবারেই কঠিন সিএ পরীক্ষায় পাশ করেন তিনি। ডিগ্রি পাওয়ার পরই ওমানে একটি সংস্থায় ভালো বেতনের চাকরি পান। সেখানে দেড় লক্ষ টাকা বেতন দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে নিজের দক্ষতায় তা আড়াই লক্ষ্যে নিয়ে যান। কিন্তু অন্যের অধীনে কাজ করা যার লক্ষ্য নয়, তিনি কি আর আটকে থাকেন? ৬ বছর চাকরি করার পর ইস্তফা দিয়ে ওমানেই নিজের চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি ফার্ম (কর্পোরেট কো ম্পা নি) খোলেন অভিষেক।
আজ ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর ব্যবসার ক্লায়েন্ট। এর পাশাপাশি ওমানে একটি সফল ‘ক্লাউড কিচেন’ ব্যবসাও চালাচ্ছেন তিনি। নিজের এই উপার্জনের টাকায় মাত্র ২১ বছর বয়সেই মুম্বইয়ের কাছে ঠাণে এলাকায় ১ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ২-BHK ফ্ল্যাট কিনে নিজের বাবাকে উপহার দিয়েছেন অভিষেক।
একটি সাক্ষাৎকারে আবেগঘন হয়ে অভিষেক বলেন, “আমি সবসময় চেয়েছিলাম আমার পরিবার যেন একটা ভালো জায়গায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়। নিজেরা কষ্ট করেও বাবা আমাকে সেরা শিক্ষাটা দিয়েছিলেন। তাই আমি জানতাম আমাকে খাটতে হবে। নিজের ওপর বিশ্বাস আর সততা থাকলে ঈশ্বর ঠিক পথ দেখিয়ে দেন।” সবজি বিক্রেতার ছেলে থেকে আজ সফল কর্পোরেট মালিক হয়ে ওঠা অভিষেকের এই লড়াই যুবসমাজের কাছে এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা।