তৃণমূলে মহাধস! মমতার সঙ্গ ছাড়লেন প্রসূনও, ২০ সাংসদ নিয়ে ভাঙনের মুখে ঘাসফুল?

কলকাতা: আরও কোণঠাসা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলছিল, তা এবার আরও দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। বুধবার পর্যন্ত যিনি দলনেত্রীর পাশে বিশ্বস্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই হাওড়ার টানা তিনবারের সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ও এবার ডিগবাজি খেলেন। মমতা শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে তিনি যোগ দিলেন বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের গ্রুপে।
সংসদে তৃণমূলের সমীকরণ এখন পুরোপুরি ওলটপালট। জানা গেছে, লোকসভায় একটি পৃথক ব্লক বা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিতে যে চিঠির বয়ান তৈরি হয়েছে, তাতে সই করে দিয়েছেন প্রসূনও। শুধু প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, এই বিদ্রোহী তালিকায় নাম লিখিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সাংসদ সায়নী ঘোষও।
এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়ার মতো একসময়ের মমতা-ঘনিষ্ঠ হেভিওয়েট নেত্রীদের নিয়ে গঠিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন ২০ জন লোকসভা সাংসদ। অন্যদিকে, খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে পড়ে রয়েছেন মাত্র ৮ জন সাংসদ।
দলের এই নজিরবিহীন ফাটলের জন্য বিদ্রোহীদের সিংহভাগ নেতাই কাঠগড়ায় তুলছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরই মধ্যে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একটি গোপন বৈঠকও হয়েছে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং। সব মিলিয়ে, যত সময় যাচ্ছে, তৃণমূলের অন্দরের ফাটল তত চওড়া হচ্ছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় মোড় এনে দিয়েছে।