উদয়নারায়ণপুরে দীর্ঘ এক মাস ঘরছাড়া বিজেপি পরিবার, ঘরে ফেরার আকুল আবেদন

উদয়নারায়ণপুরে দীর্ঘ এক মাস ঘরছাড়া বিজেপি পরিবার, ঘরে ফেরার আকুল আবেদন

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক হিংসার কালো ছায়া হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে। এলাকার খোসালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বলরামপুর গ্রামের ১২টি পরিবারের প্রায় ৫০ জন সদস্য গত ৫ মে থেকে নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়া। প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোর পর, বর্তমানে সাঁকরাইলের একটি ক্লাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তাঁরা। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাত পোহাতেই শুরু হয় তাঁদের ওপর নির্মম অত্যাচার।

হামলা ও ভিটেমাটি হারানোর করুণ ইতিহাস

ঘরছাড়া পরিবারগুলোর অভিযোগ, উদয়নারায়ণপুর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সমীর পাঁজা জয়ী হওয়ার পরই স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মধাই দলুইয়ের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার করার অপরাধে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটের পাশাপাশি গবাদি পশুর ওপরও অত্যাচার চালানো হয়। বাধ্য হয়ে এক কাপড়ে এলাকা ছাড়েন তাঁরা। দীর্ঘদিন ধরে উদ্বাস্তু জীবন কাটানোয় এই পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবন সম্পূর্ণ থমকে গেছে। অর্থাভাব ও ভয়ে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে এলাকার কলেজছাত্রীদের, সন্তানদের দূরে সরিয়ে রেখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মায়েরা। দুবেলা অন্নের সংস্থানের জন্যও তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে অন্যের দান বা সাহায্যের ওপর।

প্রশাসনের আশ্বাস ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ঘরছাড়া পরিবারগুলোকে থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। সাঁকরাইল বিজেপির মণ্ডল সভাপতি প্রশাসনকে দ্রুত পরিবারগুলোকে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী প্রভাকর পণ্ডিত জানিয়েছেন, বিষয়টি স্থানীয় থানাকে জানানোর পর পুলিশ তাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে ভোট পরবর্তী হিংসার এমন পুনরাবৃত্তিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা মধাই দলুই বা দলের কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা হলে এলাকায় স্থায়ী শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *