টলিউডে নয়া রহস্য! ফেডারেশন ভাঙল, গড়ল না কনফেডারেশন; তবে ‘হুকুম’ চালাচ্ছে কে? ভাইরাল মেলে তোলপাড়
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,800&ssl=1)
কলকাতা: টলিপাড়ার অন্দরে ক্ষমতার রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই চলছে জোরদার দড়িট টানাটানি। এরই মধ্যে সামনে এল এক বিস্ফোরক বিতর্ক। নেটপাড়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ই-মেলকে ঘিরে এখন টলিউডে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যে সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়েই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলছে, সেই ফেডারেশনের (FCTWEI) নাম এবং যোগাযোগের তথ্য ব্যবহার করে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন নির্দেশিকা জারি করছে কে?
ভাইরাল হওয়া ওই ই-মেলে দাবি করা হয়েছে, টলিউডে কাজ করা বা অনুমতির জন্য এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট ই-মেল আইডিতেই যোগাযোগ করতে হবে। আর এই মেলের পরই টলিপাড়ায় শোরগোল পড়ে গেছে—কাদের কর্তৃত্বে এই মেইল পাঠানো হলো? এর কি আদৌ কোনো প্রশাসনিক বা সরকারি সিলমোহর রয়েছে?
বিতর্কের মূল কারণ, কয়েক দিন আগেই অভিনেত্রী তথা নেত্রী পাপিয়া অধিকারী নিজেই জানিয়েছিলেন যে, বর্তমান কাঠামোয় ফেডারেশনের অস্তিত্ব কার্যত আর থাকছে না, অর্থাৎ ফেডারেশন ভেঙে গেছে। অথচ অন্যদিকে, নতুন কোনো কনফেডারেশনও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও আত্মপ্রকাশ করেনি। এমনকি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। এই ধোঁয়াশার বিষয়ে জানতে ‘দ্য ওয়াল’-এর তরফে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনো তথ্যই নেই।
নবান্নের বৈঠক ও ‘দাদাগিরি’ বন্ধের পোস্টার
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুন নবান্নে টলিপাড়ার জট কাটাতে একটি হাইভোল্টেজ বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চার বিধায়ক—রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও পাপিয়া অধিকারী। সাথে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত ও তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রধান সচিব শান্তনু বসু। টলিউডের কর্মপরিবেশ এবং টেকনিশিয়ানদের একাংশের ক্ষোভ মেটাতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল।
কিন্তু বৈঠকের পরেই সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্টার ভাইরাল হয়। সেখানে দাবি করা হয়, টলিগঞ্জে আর কোনো ‘দাদাগিরি’ চলবে না। শিল্পী, টেকনিশিয়ান ও প্রযোজকদের নিয়ে নতুন কনফেডারেশন গড়ার পথে হাঁটছে ইন্ডাস্ট্রি। পোস্টারগুলিতে পাপিয়া অধিকারীর উদ্যোগের প্রশংসাও করা হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথা থেকে?
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ জুন। টেকনিশিয়ান স্টুডিওর এক সভা থেকে পাপিয়া অধিকারী ফেডারেশনের বিকল্প হিসেবে ‘Eastern India Motion Pictures & Cultural Confederation’ (EIMPCC) গঠনের কথা বলেন। তিনি সাফ জানান, শুটিং ইউনিটে কতজন কর্মী লাগবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন শুধু প্রযোজক এবং এক্সিকিউটিভ প্রযোজক; অন্য কোনো সংগঠন এতে নাক গলাতে পারবে না। এই বক্তব্য প্রযোজকদের একাংশ স্বাগত জানালেও, ২৬টি গিল্ডের পরিবর্তে কম গিল্ড করার প্রস্তাবে ক্ষোভে ফেটে পড়েন টেকনিশিয়ানদের একটা বড় অংশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, এক আলোচনাসভায় ডিম এবং ইট ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।
এখন তবে হাল কার হাতে?
ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বর্তমানে জেল হেফাজতে। সংগঠনের পুরনো কাঠামো কার্যত অচল। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ফেডারেশনের নাম ও ফোন নম্বর ব্যবহার করে ই-মেল পাঠানোর অধিকার কার, তা নিয়ে ধন্দ কাটছে না। এখনও জন্ম না নেওয়া ‘EIMPCC’-র সাথে ফেডারেশনের সম্পর্কের দাবিই বা কীভাবে করা হচ্ছে? এই বিষয়ে পাপিয়া অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা না করে এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়।”
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর, ফেডারেশন বিলুপ্ত করার কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি, বরং পুরনো গিল্ডগুলিই বহাল থাকার সম্ভাবনা বেশি। ফলে ভাইরাল পোস্টার আর বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে, তা স্পষ্ট। টলিপাড়ার এই ক্ষমতার লড়াই ও সাংগঠনিক জটিলতা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।