উজ্জ্বলা যোজনায় ভর্তুকি কমাল কেন্দ্র, বছরে মাত্র ৪টি রান্নার সিলিন্ডারে মিলবে

দেশের প্রায় ১০.৫ কোটি দরিদ্র পরিবারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের চালু করা উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধা এক ধাক্কায় অনেকটাই সংকুচিত হলো। সাধারণ মানুষের গৃহস্থালীর রান্নার গ্যাসের দাম নিঃশব্দে বৃদ্ধির পর এবার সরাসরি ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের সংখ্যায় বড় কাটছাঁট করল কেন্দ্র। সোমবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এত দিন বছরে ৯টি সিলিন্ডারে যে সরকারি অনুদান মিলত, এখন থেকে তা কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনা হলো। এর ফলে আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে চলেছেন দেশের কোটি কোটি প্রান্তিক সুবিধাভোগী।
তৈল সংস্থাগুলির বিপুল লোকসান ও ভর্তুকি হ্রাসের কারণ
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ধারাবাহিক অস্থিরতা ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে এলপিজির আমদানি মূল্য আকাশছোঁয়া হয়েছে। এর বিপরীতে দেশের অভ্যন্তরে গ্রাহকদের তুলনামূলক কম দামে গ্যাস সরবরাহ করতে গিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত তৈল সংস্থাগুলি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব প্রবীণ এম খানুজা জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৪.২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারে তৈল সংস্থাগুলিকে প্রায় ৭০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রতি লিটার পেট্রলে ৬ টাকা এবং ডিজেলে ৩০ টাকা করে ক্ষতি হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গৃহস্থালী এলপিজি বিক্রি করে তৈল সংস্থাগুলির অনাদায়ী ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই বিপুল লোকসানের বহর কমাতেই কেন্দ্র উজ্জ্বলা যোজনায় ভর্তুকিতে রাশ টানার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভর্তুকির ক্রমহ্রাসমান গ্রাফ ও সম্ভাব্য প্রভাব
কোভিড মহামারীর সময়ে দরিদ্র পরিবারগুলিকে উজ্জ্বলা প্রকল্পের অধীনে বিনামূল্যে তিনটি সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছিল এবং ২০২২ সালের মে মাস থেকে সিলিন্ডার প্রতি ২০০ টাকা ভর্তুকি চালু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেই অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হলেও পর্যায়ক্রমে এর সুফল পাওয়ার পরিধি কমিয়ে আনা হচ্ছে। শুরুতে বছরে ১২টি সিলিন্ডারে এই সুবিধা পাওয়া গেলেও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা ৯টিতে নামানো হয় এবং বর্তমান সিদ্ধান্তের পর তা মাত্র ৪টিতে এসে ঠেকল। বছরে মাত্র ৪টি সিলিন্ডারে ভর্তুকি সীমিত করার ফলে বছরের বাকি মাসগুলিতে দরিদ্র পরিবারগুলিকে সম্পূর্ণ বাজারদরে গ্যাস কিনতে হবে, যা তাদের গৃহস্থালীর বাজেটের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করবে। কেন্দ্রের দাবি, বিশ্ববাজারে মূল্যের তীব্র অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের সাধারণ মানুষের কথা ভেবে দাম যতটা সম্ভব নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে এই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির রান্নার খরচে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।