রক্ষকই যখন ভক্ষক! পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের উঠল বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। একদিকে খোদ সরকারি হাসপাতালে খাকি উর্দির আড়ালে দিনের পর দিন চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ, অন্যদিকে বাড়িতে একা পেয়ে মূক ও বধির মহিলাকে পাশবিক নির্যাতন। বীরভূম ও হিঙ্গলগঞ্জের এই দুই পৃথক নারী নির্যাতনের ঘটনায় শিউরে উঠছে সাধারণ মানুষ। দুই ঘটনাতেই ইতিমধ্যে তৎপরতার সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হাসপাতালের অন্দরেই পুলিশের কীর্তি
বীরভূমের সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে কর্মরত এক পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে উঠেছে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। সিউড়ি থানার কড়িধ্যা-কানাইপুর এলাকার বাসিন্দা জার্মান খান নামে ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এক চুক্তিভিত্তিক মহিলা কর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে হাসপাতালে কাজে যোগ দেন ওই মহিলা এবং সেই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই সংস্থার সুপারভাইজার ছিল। অভিযোগকারিণীর দাবি, ২০১৯ সাল থেকে হাসপাতালের একটি ঘরে তাঁকে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও হুমকি দেখিয়ে এই নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। অবশেষে স্বামীর কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলার পর সোমবার রাতে সিউড়ি মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই নির্যাতিতা। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিবেশীর লালসার শিকার মূক ও বধির মহিলা
অন্যদিকে, হিঙ্গলগঞ্জ থানার ১৩ নম্বর সান্ডেলবিল এলাকায় আরও একটি ঘৃণ্য অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে। সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে এক মূক ও বধির মহিলাকে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি। বাড়ির পিছনে বাসন মাজার সময় পিছন দিক থেকে এসে তাঁকে জোর করে ঘরে নিয়ে গিয়ে এই পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়। পরে নির্যাতিতা তাঁর বাপের বাড়িতে গিয়ে বাবা-মাকে ইশারায় সমস্ত ঘটনা জানালে, হিঙ্গলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে ওই প্রতিবেশীকেও গ্রেফতার করেছে।
সামাজিক অবক্ষয়, অপরাধীদের মনে আইনি শাস্তির ভয়ের অভাব এবং প্রশাসনিক নজরদারির ফাঁকফোকরই এই ধরনের অপরাধের অন্যতম কারণ। সরকারি হাসপাতালে যেখানে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার ভরসায় যান, সেখানে খোদ পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং নিজের বাড়িতে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মহিলার উপর প্রতিবেশী দ্বারা এই ধরনের নির্যাতন সমাজে মহিলাদের চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতাকে প্রকট করে তুলছে। এই ধরনের ঘটনার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসন ও পারিপার্শ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অনাস্থা এবং আতঙ্ক আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।