সন্ধের পর অন্য রূপ বাগানবাড়ির! ‘মাছ ভাজা’র নামে মহিলাদের ডাকতেন দেগঙ্গার ‘শাহজাহান’?

সন্ধের পর অন্য রূপ বাগানবাড়ির! ‘মাছ ভাজা’র নামে মহিলাদের ডাকতেন দেগঙ্গার ‘শাহজাহান’?

উত্তর ২৪ পরগনা: দিনের বেলায় চারদিক একেবারে শুনশান। কিন্তু সন্ধে নামলেই বদলে যেত চেনা ছবিটা। বাড়তে শুরু করত ভিড়, আর গভীর রাত পর্যন্ত চলত একদল মানুষের আনাগোনা। দেগঙ্গার হাঁসিয়ার একটি বিলাসবহুল বাগানবাড়িকে ঘিরে এখন এমনই সব বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় হচ্ছে এলাকা। অভিযোগের তির স্থানীয় তৃণমূল নেতা রবিউল ইসলামের দিকে, যাঁকে অনেকেই এখন সন্দেশখালির ‘শাহজাহান’-এর সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি তিনি গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

রবিউল ধরা পড়তেই এতদিনের চাপা ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ওই বাগানবাড়িতে মাছ কাটা, মাছ ভাজা কিংবা রান্নার কাজের অছিলায় প্রায়ই এলাকার মহিলাদের ডেকে পাঠানো হতো। অভিযোগ, সন্ধের পর ওই বাগানবাড়িতে নিয়মিত বসত মদের আসর। বাইরের প্রভাবশালীদের যাতায়াত ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয়দের একাংশের গুরুতর অভিযোগ, মহিলাদের ব্যবহার করে সেখানে অসামাজিক কাজকর্ম ও মধুচক্র চালানো হতো। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের কোনো অকাট্য প্রমাণ এখনও মেলেনি।

সন্দেশখালির আন্দোলনের সময় যেমন ‘পিঠে ভাজা’ শব্দটি রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে চলে এসেছিল, দেগঙ্গায় এখন তেমনই টক অফ দ্য টাউন ‘মাছ ভাজা’। বাসিন্দাদের কথায়, এই শব্দবন্ধটিই এখন রবিউলের অন্দরের কীর্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। শুধু বাগানবাড়ির ভেতরে কী চলত তাই নয়, সেটি কীভাবে তৈরি হলো তা নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্ন। অভিযোগ, কৃষিজমির চরিত্র বদলে বেআইনিভাবে মাটি কেটে প্রথমে একটি বিশাল ঝিল বানানো হয়। তারপর তার পারেই তৈরি হয় শান বাঁধানো ঘাট ও এই বিলাসবহুল বাগানবাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পত্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ থাকলেও, ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পেতেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজু মণ্ডল ও টনি বিশ্বাসের দাবি, একসময় দিনমজুর হিসেবে কাজ করা রবিউল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান। বর্তমানে তিনি শতাধিক বিঘা জমির মালিক। তাঁরা বলেন, “প্রভাব ও প্রতিপত্তির ভয়ে এতদিন কেউ প্রকাশ্যে কিচ্ছু বলতে সাহস পায়নি। এখন ও গ্রেপ্তার হতেই সব কুকীর্তি সামনে আসছে।” তবে গ্রামবাসীদের তোলা এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের তরফেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *