জামাইকে পিটিয়ে খুন শাশুড়ির! মেয়েকে বাড়ি ফেরাতে গিয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড

জামাইকে পিটিয়ে খুন শাশুড়ির! মেয়েকে বাড়ি ফেরাতে গিয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড

আহমেদাবাদ: শাশুড়ি ও জামাইয়ের ঝগড়া যে এমন ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। রাগ করে বাপের বাড়ি চলে আসা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন যুবক। কিন্তু সেখানে শাশুড়ির সাথে বচসার জেরে ঘটল চরম রক্তক্ষয়ী কাণ্ড। জামাইকে ইট ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বয়ং শাশুড়ির বিরুদ্ধে। আহমেদাবাদের নারোল এলাকার এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বছর সাতাশের অঞ্জলির সাথে পরেশভাই লাম্ভার বিয়ে হয়েছিল। সম্প্রতি রাজপিপলা এলাকায় নিজেদের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম অশান্তি হয়। এর জেরে রাগ করে আহমেদাবাদের নারোলে নিজের বাপের বাড়ি চলে আসেন অঞ্জলি। স্ত্রী চলে আসার পর থেকেই তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন পরেশভাই, কিন্তু তাতে সমস্যা মেটার বদলে আরও বাড়ছিল।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পরেশভাই তাঁর এক বন্ধু জিগ্নেশ শ্রীমালিকে সাথে নিয়ে বাইকে করে তাঁর শ্বশুরবাড়ি পৌঁছান। সেখানে শাশুড়ি দিনাবেন ভেগাড়াকে দেখেই তিনি চেঁচামেচি শুরু করেন এবং জানতে চান, কেন তাঁর স্ত্রীকে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে না। এই নিয়ে শাশুড়ি ও জামাইয়ের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

অভিযোগ, ঝগড়া চলাকালীন চরম উত্তেজিত হয়ে পরেশভাই নিজের কাছে থাকা একটি অস্ত্র বের করে শাশুড়ির ওপর হামলা করার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই আত্মরক্ষার্থে দিনাবেন পাশে পড়ে থাকা একটি ইট তুলে জামাইয়ের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। ইটের ঘায়ে পরেশভাই মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই শাশুড়ি একটি লাঠি নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং এলোপাথাড়ি পেটাতে থাকেন। গুরুতর জখম অবস্থায় পরেশভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পর এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয় শ্বশুরবাড়িতে। নিজের মায়ের বিরুদ্ধে স্বামীকে খুনের অভিযোগ এনে নারোল থানায় মামলা দায়ের করেন মেয়ে অঞ্জলি। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়ার আগে শাশুড়ি দিনাবেনও পাল্টা অভিযোগ করে জানান, জামাই তাঁর মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার করছিল এবং ঘটনার দিন তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। পুলিশ দুই পক্ষের অভিযোগই নথিভুক্ত করেছে এবং শাশুড়ি দিনাবেনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি মূলত একটি পারিবারিক বিবাদের ঘটনা। তবে এর পেছনে আত্মরক্ষা (Self-defense) নাকি পরিকল্পিত খুন—এই দুই দেওয়াল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *