‘আসল তৃণমূল’ আমরাই এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন! ২০ সাংসদকে নিয়ে মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি কাকলির

ভোটের ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের গৃহদাহ এবার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। মমতার হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াইতে এবার সরাসরি মুখ খুললেন বারাসাতের প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। নিজেদেরই ‘প্রকৃত তৃণমূল’ বলে দাবি করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দল আসলে কার, সেই বিষয়ে এবার চূড়ান্ত ফয়সালা করবে ভারতের নির্বাচন কমিশনই।
২০ সাংসদকে নিয়ে এনডিএ জোটে শামিল হওয়ার ঘোষণা
বৃহস্পতিবার এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেন, তাঁদের সঙ্গে লোকসভার ২০ জন সাংসদ রয়েছেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদীয় নিয়মে তাঁরাই এখন আসল তৃণমূল কংগ্রেস। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, তাঁরা দিল্লির বুকে এনডিএ (NDA) জোটের সঙ্গেই থাকছেন, কারণ দেশের স্বার্থে এনডিএ-র সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল।
মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ভাঙনের প্রসঙ্গ টেনে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, একনাথ শিন্ডের মডেল অনুসরণ করেই কাকলিরা এবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে তৃণমূলের নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিজেদের আখের গোছাতে ব্যবহার করার আইনি লড়াইয়ে নামতে চলেছেন।
আকস্মিক নয়, মমতাবিরোধী ছক চলছিল দীর্ঘ ২ বছর ধরে!
ভোটের ফল খারাপ হওয়ার কারণে হঠাৎ মমতাবিরোধী পালে হাওয়া দেওয়া হয়েছে— এমন অভিযোগ সপাটে উড়িয়ে দিয়েছেন বারাসাতের সাংসদ। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ আজ হুট করে নেওয়া হয়নি, বরং বিগত ২ বছর ধরে অত্যন্ত গোপনে এই সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়া চলছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, শুধুমাত্র সেই সুসম্পর্কের খাতিরেই এতদিন তিনি দলে টিকে ছিলেন।
ঋতব্রত ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট
বিদ্রোহী শিবিরের এই হেভিওয়েট নেত্রী অন্যান্য সমসাময়িক নেতাদের সঙ্গে তাঁদের সমীকরণও পুরোপুরি স্পষ্ট করে দিয়েছেন:
- ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে: রাজ্যের বর্তমান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁদের লোকসভা শিবিরের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। ঋতব্রত নিজের মতো পদক্ষেপ করছেন।
- কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে: শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যে কোনওভাবেই তাঁদের সঙ্গে নেই, তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কাকলি। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমি ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি, তাই তাঁর সঙ্গে থাকার প্রশ্নই ওঠে না।”
সব মিলিয়ে, বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও মমতার হাত থেকে তৃণমূলের রাশ আলগা হয়ে যাওয়ায় বাংলার পাশাপাশি দিল্লির জাতীয় রাজনীতিও এখন তোলপাড়।