ফলতার ‘পুষ্পা’ এখন ভিজে বেড়াল! দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ

ফলতার একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে হাফপ্যান্ট ও সাদা টি-শার্ট পরিয়ে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ। মূলত ঘটনার পুনর্নির্মাণের (ক্রাইম রিকনস্ট্রাকশন) কারণেই তাঁকে এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশের এই কড়া অ্যাকশনে একসময়ের ত্রাস তথা ফলতার ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত এই নেতাকে একেবারে ‘ভিজে বেড়াল’ রূপে দেখা গিয়েছে। অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের দম্ভ চূর্ণ করতে পুলিশ এখন এই বিশেষ ‘হাফপ্যান্ট মডেল’ হাতিয়ার করছে বলে চর্চা শুরু হয়েছে।
নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার হন জাহাঙ্গির
গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে নাটকীয়ভাবে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এই হেভিওয়েট নেতা। এরপর দিনকয়েক গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর, গত ৮ জুন নেপাল সীমান্ত থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF) তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ-এর আধিকারিকেরা সেখানে হানা দিয়ে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে তাঁকে পাকড়াও করেন।
পুলিশের নিশানায় একে একে ‘দাপুটে’ নেতারা
ধৃতদের দম্ভ ভাঙতে ইদানীং পুলিশের এই রণকৌশল জনমনে বেশ সাড়া ফেলেছে। জাহাঙ্গির খানের আগে আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতার ক্ষেত্রেও একই মডেল দেখা গিয়েছে:
- আকাশ সিং: উত্তর হাওড়ার রাস্তায় স্যান্ডো গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট পরিয়ে ঘোরানো হয়েছিল এই অভিযুক্তকে।
- শামিম আহমেদ: তৃণমূল কাউন্সেলরের স্বামী শামিম আহমেদকেও দিনদুপুরে গেঞ্জি-হাফপ্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় হাঁটায় পুলিশ।
- অভিজিৎ রায় ওরফে বনি: কাঁচরাপাড়া পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই যুব তৃণমূল সভাপতিকে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো হয়েছিল।
আইন রক্ষকদের এমন কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপে অপরাধীদের মনে কতটা ভীতি তৈরি হয়, এখন সেটাই দেখার।