দক্ষিণবঙ্গে আরও কাছে বর্ষা! কবে থেকে নামবে কাঙ্ক্ষিত ঝুম বৃষ্টি

উত্তরবঙ্গের পর এবার দক্ষিণবঙ্গের দিকেও আরও কিছুটা অগ্রসর হলো দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। অনুকূল আবহাওয়া এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের কারণে রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের অবশিষ্টাংশে বর্ষা পুরোপুরি প্রবেশের জন্য পরিস্থিতি আরও অনুকূল হবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। চাতক পাখির মতো বর্ষার অপেক্ষায় থাকা দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য এই খবর নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির বিস্তার ও কারণ
বঙ্গোপসাগর থেকে প্রবল আর্দ্রতা অনুপ্রবেশের ফলে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আজ পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হুগলি জেলার অধিকাংশ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর পাশাপাশি বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে সাত থেকে এগারো সেন্টিমিটার পর্যন্ত। এই বৃষ্টিপাতের প্রধান কারণ হিসেবে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তাকে চিহ্নিত করেছেন আবহাওবিদরা। একটানা সাত দিন এই বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস মিলেছে, যা তীব্র দাবদাহ থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকায় মাঠে ঘাটে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ
রাজ্যের উত্তরের জেলাগুলিতে বর্ষা ইতিমধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের বেশিরভাগ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত চলছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যার পরিমাণ কুড়ি সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় এই অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে ধস নামার ঝুঁকি এবং নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের প্রায় সবকটি জেলাতেই বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।