খেলার দুনিয়ায় বিরাট ধাক্কা! মাত্র ৪৯ বছরেই প্রয়াত ৯টি সোনাজয়ী শ্যুটিং কিংবদন্তি জসপাল রানা

নয়াদিল্লি: ভারতীয় ক্রীড়াজগতে অপূরণীয় ক্ষতি। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন দেশের কিংবদন্তি পিস্তল শ্যুটার এবং প্রখ্যাত কোচ জসপাল রানা। শুক্রবার সকালে দিল্লির একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ ক্রীড়ামহলের ব্যক্তিত্বরা।
বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পথেই বুকে ব্যথা:
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জার্মানির মিউনিখে আইএসএসএফ (ISSF) বিশ্বকাপ চলাকালীনই প্রথম বুকে ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন জসপাল। প্রথমে বিষয়টিকে গ্যাসের সমস্যা বলে এড়িয়ে গেলেও, দেশে ফেরার পথে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তড়িঘড়ি তাঁকে সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর হার্টে ব্লকেজ খুঁজে পাওয়ায় একটি স্টেন্ট বসানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও, শুক্রবার সকালে আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায় নেন ভারতের এই সোনার ছেলে।
অলিম্পিক পদকজয়ী মনু ভাকরের ‘গুরু’:
জসপাল রানা শুধু দেশের সফল শ্যুটারই ছিলেন না, বরং ভারতের পিস্তল শ্যুটারদের হাই-পারফরম্যান্স কোচ হিসেবেও তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে মনু ভাকরের দুটি ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পেছনে কোচ জসপাল রানার অবদান সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হয়েছিল। এ ছাড়াও সৌরভ চৌধুরী ও অনীশ ভা ওয়ালার মতো বহু প্রতিভাবান আন্তর্জাতিক মানের শ্যুটার তৈরি করেছেন তিনি।
দেশের অন্যতম সেরা পিস্তল কিংবদন্তি:
১৯৭৬ সালে উত্তরাখণ্ডে জন্ম নেওয়া জসপাল রানা ১৯৯৪ সালে মিলানে বিশ্ব শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে জুনিয়র বিভাগে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জিতে লাইমলাইটে আসেন। এরপর এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস মিলিয়ে দেশের জন্য পদকের বন্যা বইয়ে দেন তিনি। কমনওয়েলথ গেমসেই তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৯টি সোনা সহ মোট ১৫টি পদক। ২০০৬ সালের দোহা এশিয়ান গেমসে একাই তিনটি সোনা জিতে বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়েছিলেন তিনি।
খেলার মাঠে এই অসামান্য অবদানের জন্য মাত্র ১৮ বছর বয়সে অর্জুন পুরস্কার এবং পরবর্তীতে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত হন জসপাল রানা। তাঁর এভাবে চলে যাওয়া ভারতীয় শ্যুটিংয়ের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা করল।