‘চার্টার্ড অভিষেক’! বিমানের ১০০ কোটির খরচ নিয়ে মমতার ভাইপোকে বেনজির আক্রমণ ঋতব্রতর

কলকাতা: দলের বিলাসবহুল লাইফস্টাইল নিয়ে এবার খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে সরাসরি ‘চার্টার্ড অভিষেক’ তকমা দিয়ে তিনি বলেন, “চার্টার্ড ফ্লাইটে চড়ে আর যাই হোক, রাজপথে লড়াই করা যায় না।”
বিদ্রোহী তৃণমূলের নয়া কমিটি ও ‘শোকজ’ জল্পনা:
সোমবার ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল শিবিরের এক বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠক শেষে এক নতুন কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেন ঋতব্রত। নিয়ম মেনেই সব করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “এটা মগের মুলুক নয়।” বৈঠকের মাঝেই গুঞ্জন ছড়ায়, সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাকি শোকজ করা হয়েছে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত চড়া সুরে কটাক্ষ করে বলেন, “’চার্টার্ড অভিষেক’কে নিয়ে বৈঠকে কোনও কথাই হয়নি।”
বিমানের পিছনে ১০০ কোটির খরচ! ক্ষুব্ধ কুণালও:
নির্বাচন কমিশনে জমা পড়া তৃণমূলের অডিট রিপোর্টে দেখা গেছে, গত দু’বছরে শুধুমাত্র বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়ার পিছনেই দল খরচ করেছে প্রায় ৯৩.৬৮ কোটি টাকা (প্রায় ১০০ কোটি)! তৃণমূলের মতো ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর দলের এমন আকাশছোঁয়া করপোরেট বিলাসিতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কুণাল ঘোষও। তিনি স্পষ্ট জানান, “অভিষেক যদি চার্টার্ড বিমানে গিয়ে থাকেন এবং সেই টাকা যদি দলের তহবিল থেকে খরচ হয়ে থাকে, তবে দলীয় কর্মী হিসেবে আমি তা কোনওভাবেই সমর্থন করি না।” সম্প্রতি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরও এই চার্টার্ড বিমানেই হয়েছিল, যা নিয়ে নিচু তলার কর্মীদের মনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা অরূপ রায়ের:
বিদ্রোহী তৃণমূলের নবনিযুক্ত চেয়ারপার্সন অরূপ রায় বলেন, “সারা বাংলা জুড়ে কর্মীরা আজ মার খাচ্ছেন। ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করে দল গড়েছি, আজ সেই কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেই এই নতুন কমিটি।” অভিষেক শিবিরের করপোরেট সংস্কৃতির দিকে ইঙ্গিত করে প্রবীণ এই নেতা মনে করিয়ে দেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য কর্মীদের সম্মান ও অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। রাজনৈতিক মহলের মতে, ঋতব্রতর এই ‘চার্টার্ড অভিষেক’ মন্তব্য জোড়াফুল শিবিরের আদি বনাম নব্য দ্বন্দ্বকে এক চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিল।