প্রথম বাজেটেই মাদ্রাসায় কোপ! সংখ্যালঘু খাতে একধাক্কায় ৬০% বরাদ্দ কমাল রাজ্য

কলকাতা: ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর স্লোগান থাকলেও প্রথম বাজেটেই সংখ্যালঘু কল্যাণ এবং মাদ্রাসা শিক্ষাখাতে বড়সড় কোপ বসাল রাজ্যের নতুন সরকার। নারীকল্যাণ, কৃষি, কর্মসংস্থান বা মঠ-মন্দিরের সংস্কারে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই বাজেটে কার্যত নীরবতা পালন করল পদ্মশিবির।
কতটা কমল বরাদ্দ?
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সংখ্যালঘু কল্যাণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য রাজ্য সরকার মাত্র ২,১৬৫.৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। অথচ, চলতি অর্থবর্ষের শুরুতে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের পেশ করা অন্তর্বর্তী বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৫,৭১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় বরাদ্দ কমল ৩,৫৪৮ কোটি টাকা, যা আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম!
অনিশ্চয়তায় লক্ষাধিক পড়ুয়া:
রাজ্যে সরকারিভাবে স্বীকৃত ৬১৪টি মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে পড়াশোনা করে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ পড়ুয়া। একধাক্কায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কাটছাঁটের ফলে রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছে—
- ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ বা বৃত্তি।
- সংখ্যালঘু আবাসনের কাজ।
- মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন।
- সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি।
বিরোধীদের তোপ:
বাজেট বক্তৃতায় মঠ-মন্দির ও ধর্মীয় পর্যটনের জন্য আলাদা করে অর্থ বরাদ্দ করা হলেও সংখ্যালঘু খাতে এই বিপুল কাটছাঁট নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, মুখে ‘সবার সঙ্গে, সবার উন্নয়ন’-এর কথা বললেও প্রথম বাজেটেই নিজেদের আসল রং দেখিয়েছে বিজেপি। বিরোধীদের দাবি, এই কাটছাঁট নিছক কোনও আর্থিক পুনর্বিন্যাস নয়, বরং পরিষ্কারভাবেই রাজ্যের নতুন সরকারের আদর্শগত ও বিভাজনের রাজনীতির প্রতিফলন।