তৃণমূল আসলে কার? মমতাকে বাদ দিয়ে ঋতব্রতর ‘নয়া’ কমিটি! কোন দলে কে কোন পদে?

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস এখন কার? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের? বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আড়াআড়ি বিভক্ত ঘাসফুল শিবিরে এবার চরম নাটকীয়তা। সোমবার এক পাঁচতারা হোটেলে বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে ‘স্পেশাল সেশন’ বা বিশেষ অধিবেশন ডেকে ‘নব্য তৃণমূল’-এর নতুন কমিটি ঘোষণা করল ঋতব্রত শিবির। আর সবচেয়ে বড় চমক, এই কমিটিতে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হলেও শীর্ষ পদে রাখা হয়েছে খোদ মমতার আস্থাভাজন ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসকে!

‘নয়া তৃণমূল’-এর কমিটিতে কে কোন পদে?

মাত্র ৩০ মিনিটের বৈঠকে ৩০ জনের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছে ঋতব্রত শিবির। তাঁদের দাবি, তাঁরাই আসল তৃণমূল।

  • সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সন: অরূপ রায় (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প হিসেবে)।
  • সাধারণ সম্পাদক: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং বিপ্লব মিত্র।
  • সহ-সভাপতি: ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন।
  • কোষাধ্যক্ষ: আখরুজ্জামান।

নতুন কমিটি ঘোষণার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরাই আসল তৃণমূল। নিয়ম মেনেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানো হবে এবং কলকাতায় নতুন পার্টি অফিসও খোলা হবে।”

কালীঘাট শিবিরের পাল্টা হুঁশিয়ারি

ঋতব্রত শিবিরের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে উড়িয়ে দিয়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। দলের পক্ষে কুণাল ঘোষের স্পষ্ট জবাব, “পার্টির নিজস্ব গঠনতন্ত্র রয়েছে। চাইলেই যে কেউ এভাবে কমিটি গড়তে পারে না। আমরা এর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হব।”

কালীঘাট তৃণমূলের কমিটিতে কারা আছেন?

পাল্টা শিবিরের দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে রয়েছেন পুরনো নেতারাই। একনজরে তাঁদের পদ:

  • চেয়ারপার্সন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • সহ-সভাপতি: সুব্রত বক্সী।
  • যুগ্ম সম্পাদক: ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন।
  • কোষাধ্যক্ষ: সুভাশিষ চক্রবর্তী।
  • রাজ্য সভাপতি: চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
  • ২৪ জনের ওয়ার্কিং কমিটি: উপরোক্ত শীর্ষ নেতৃত্ব ছাড়াও এই কমিটিতে রয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মলয় ঘটক, মদন মিত্র, মহুয়া মৈত্র, কুণাল ঘোষ, সৌগত রায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা।

দুই শিবিরের এই সমান্তরাল কমিটি ঘোষণার পর সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন ও আইনি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত ‘আসল তৃণমূল’-এর আইনি স্বীকৃতি কোন বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *