‘পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছি’, মোদিকে চিঠি দিয়ে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা: ২০শে জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ এবং ২১শে জুন রাজ্যজুড়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের পর এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এক সুদীর্ঘ চিঠি পাঠালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের লেটারহেডে পাঠানো এই চিঠিতে একদিকে যেমন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের কথা স্মরণ করা হয়েছে, তেমনই কাশ্মীর নীতি ও সিএএ (CAA) কার্যকর করা নিয়ে মোদি সরকারের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন তিনি। গেরুয়া শিবিরের আদর্শে মোড়া এই চিঠি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে কী লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী?
চিঠির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে ‘পরম সম্মানীয় মোদিজি’ বলে সম্বোধন করেন শুভেন্দু। তিনি লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ এগোচ্ছে এবং গত ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাতেও এখন পরিবর্তন এসেছে। রাজ্য এখন প্রগতি ও সুশাসনের পথে হাঁটছে বলে দাবি করে সমগ্র রাজ্যবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘গেরুয়ায় অভিনন্দন’ জানান তিনি।
শ্যামাপ্রসাদ স্মরণ ও ‘পাপের প্রায়শ্চিত্ত’
চিঠিতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক অবদানের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৪৭ সালের ২০শে জুন তাঁরই অক্লান্ত প্রচেষ্টায় হিন্দু বাঙালিরা নিজেদের জন্য একখণ্ড জমি পেয়েছিল। কাশ্মীর নিয়ে শ্যামাপ্রসাদের “এক বিধান, এক নিশান, এক প্রধান” স্লোগানের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু লেখেন, ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে মোদি সরকার সেই স্বপ্নই পূরণ করেছে। পূর্বতন সরকারগুলি এই ইতিহাসকে মর্যাদা না দিয়ে যে ‘পাপ’ করেছিল, ২০শে জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার তার ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করল বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সিএএ-র প্রশংসা ও ‘সোনার বাংলা’র সংকল্প
দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে যাঁরা এ দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সিএএ-র মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়াকে ‘ঈশ্বরের আশীর্বাদ’ বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কুর্নিশ জানান।
চিঠির শেষে শুভেন্দু অধিকারী ২০২৬ সালটিকে বাংলার ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে দাবি করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’ গানের সার্ধশতবর্ষ, ড. মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবর্ষ, পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্যাপন এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কথা তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, রাজ্যে প্রথমবার ‘জাতীয়তাবাদী সরকার’ গঠনের কারণেই এই ঐতিহাসিক সমাপতন সম্ভব হয়েছে। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলায় ‘সোনার বাংলা’ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে চিঠির ইতি টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী।