বেকারত্ব দূরীকরণ ও শিল্পে জোর! রাজ্যের খোলনলচে বদলাতে ‘ত্রিমুখী নীতি’ আনছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

কলকাতা: রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো মজবুত করতে এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে এক মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার থেকে সম্পূর্ণ নতুন ‘ত্রিমুখী নীতি’ বা থ্রি-টায়ার পলিসি মেনে চলবে রাজ্য প্রশাসন। মূলত সরকারি নিয়োগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা এবং ভারী শিল্পের বিকাশের ওপর জোর দিয়েই এই রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মূলত তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর কাজ করা হবে:
১) মেধার ভিত্তিতে দ্রুত সরকারি নিয়োগ:
রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যে সমস্ত শূন্যপদ রয়েছে, সেগুলিতে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
২) কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে বিপ্লব:
সাধারণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন এনে ছোট ও বড়— উভয় ধরনের ব্যবসায়ীদের ঋণের সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া, রাজ্যের বেকার যুবকদের স্বনির্ভর করতে বিভিন্ন ‘সাবসিডি ওরিয়েন্টেড’ বা ভর্তুকিযুক্ত ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে সরাসরি আর্থিক সাহায্য করবে সরকার।
৩) শিল্পায়ন ও প্রসেসিং ইউনিটের জোয়ার:
রাজ্যে বড়সড় শিল্প জোয়ার আনতে ভারী শিল্প (Heavy Industry) এবং এমএসএমই (MSME) সেক্টরের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি ফুড প্রসেসিং (খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ), হর্টিকালচার (উদ্যানপালন) এবং ফিশারি (মৎস্যচাষ) ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রসেসিং ইউনিট ও ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে।
নবান্নের এই ত্রিমুখী কৌশলের হাত ধরে রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামো উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের এক বিশাল সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।