কিমের দেশে ড্রোন পাঠিয়ে যুদ্ধ বাঁধানোর চক্রান্ত, ৩০ বছরের সাজা পেলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট!

কিমের দেশে ড্রোন পাঠিয়ে যুদ্ধ বাঁধানোর চক্রান্ত, ৩০ বছরের সাজা পেলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট!

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বড়সড় তোলপাড় সৃষ্টি করে ৩০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেন দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধানোর গভীর ষড়যন্ত্র এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দেশটির একটি আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি এবং দেশে সামরিক আইন (মার্শাল ল) জারির পরিস্থিতি তৈরি করতে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ইওল, যা সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।

সংকটের কারণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার

মামলার বিবরণী ও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল আচমকা দেশে মার্শাল ল জারির ব্যর্থ চেষ্টা করেন। এই অসাংবিধানিক পদক্ষেপকে দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম নিরাপত্তাজনিত সংকট তৈরি করতে তিনি উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোন মোতায়েনের গোপন নির্দেশ দেন। উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত করা। যদিও তীব্র গণবিক্ষোভ এবং আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতায় মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সেই সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এর আগে বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার অপরাধে অন্য একটি আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল, যার পর এই নতুন সাজা তাঁর আইনি সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলল।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের এই সাজার পর দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এক বিবৃতিতে জানান, এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনা দেশের অর্থনীতির বিপুল ক্ষতিসাধন করেছে। এই রায় ঘোষণার পর প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়াও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে; কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রশাসনের অবস্থানকে ‘বিচক্ষণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক রায় দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী দিনে দুই কোরিয়ার মধ্যকার ভঙ্গুর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *