ক্যামেরার সামনেই কোরিয়ার সাংবাদিককে জড়িয়ে চুমু মেক্সিকোর সুন্দরীর, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিশ্বজুড়ে তুমুল বিতর্ক

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই মাঠের লড়াইকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলো মাঠের বাইরের এক অনভিপ্রেত ঘটনা। সম্প্রচার চলাকালীন দক্ষিণ কোরিয়ার এক পুরুষ সাংবাদিককে প্রকাশ্য রাস্তায় মেক্সিকোর এক নারী সমর্থকের জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
উচ্ছ্বাস নাকি হেনস্তা
বিশ্বকাপের প্রথম দিনে নিজেদের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকো দুই দলই জয় পেয়েছে। মাঠের সেই জয়ের আনন্দ উদযাপন করতে গিয়েই ঘটে এই ঘটনা। জাপোপান শহরের এস্তাদিও গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামের বাইরে লাইভ ক্যামেরার সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার এক সাংবাদিক। ঠিক তখনই পেছন থেকে মেক্সিকোর এক নারী সমর্থক এসে আচমকা তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং গালে চুমু খান। অপ্রত্যাশিত এই পরিস্থিতিতে দৃশ্যত অস্বস্তিতে পড়েন ওই সাংবাদিক এবং কোনো রকমে জোরপূর্বক হাসি মুখে নিজের পেশাগত দায়িত্ব শেষ করার চেষ্টা করেন।
দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একাংশের দাবি, এই আচরণ স্পষ্টতই ‘যৌন হেনস্তা’র শামিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, লিঙ্গভেদে কি অপরাধের সংজ্ঞা বদলে যায়? যদি কোনো পুরুষ সমর্থক একজন নারী সাংবাদিকের সাথে একই আচরণ করতেন, তবে বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। ফলে নারীর ক্ষেত্রেও কেন ছাড় দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
অন্যদিকে, ভিন্ন এক দল নেটিজেন বিষয়টিকে মেক্সিকান সংস্কৃতির অতি-উচ্ছ্বাস হিসেবে দেখছেন। বিশ্বজুড়ে কোরিয়ান সংস্কৃতির তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে এই আবেগপ্রবণ বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। তবে কারণ যা-ই হোক, অনুমতি ছাড়া একজন পেশাদার সাংবাদিকের সাথে এমন আচরণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্রীড়া সংস্কৃতির মার্জিত রূপ ও ব্যক্তিগত শালীনতার সীমানা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।