উল্কার গতিতে উত্থান, অবশেষে জালে বালি-কয়লার সাম্রাজ্যের সম্রাট যুধিষ্ঠির!

উল্কার গতিতে উত্থান, অবশেষে জালে বালি-কয়লার সাম্রাজ্যের সম্রাট যুধিষ্ঠির!

বাম আমলে বেআইনি কাজে হাতেখড়ি হলেও তৃণমূল জমানায় উল্কার গতিতে উত্থান ঘটেছিল তার। অল্প সময়ের ব্যবধানেই হয়ে উঠেছিলেন বিপুল সম্পত্তির মালিক। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে কীভাবে বালি ও কয়লা পাচারের একটি বিরাট সাম্রাজ্য তৈরি করেছিলেন পাণ্ডবেশ্বরের যুধিষ্ঠির ঘোষ, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল স্থানীয়দের। প্রভাবশালী এই পাণ্ডবের অবশেষে পুলিশের জালে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

অবৈধ কয়লা ও বালির রমরমা কারবার

খোলা মুখ খনি থেকে অবাধে কয়লা উত্তোলন এবং অজয় নদের বুক চিরে বালি পাচারের মতো অনৈতিক কাজের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই নাম জড়িয়েছিল যুধিষ্ঠিরের। এই অবৈধ কারবারকে কেন্দ্র করে রাতারাতি বিপুল সম্পত্তির মালিক হন তিনি। স্থানীয়দের একাংশের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন কয়লা-বালি সাম্রাজ্যের সম্রাট হিসেবে। অভিযোগ রয়েছে, পাণ্ডবেশ্বর-সহ সংলগ্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি, জমি, দামি গাড়ি এবং বেহিসাবি অর্থের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন তিনি। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা এই অবৈধ ব্যবসার কারণে পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়েছিল।

ত্রাসের রাজত্ব ও কেন্দ্রীয় তদন্ত

এলাকায় যুধিষ্ঠিরের প্রভাব এতটাই বেশি ছিল যে ভয়ে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পেতেন না সাধারণ মানুষ। শুধু বালি-কয়লা পাচারই নয়, তপশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য ও গালিগালাজের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার এই বিপুল সম্পত্তির উৎস সন্ধানে নেমে আর্থিক লেনদেন ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে আগেই তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। অবশেষে সমস্ত চক্র ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের জাল ছিন্ন করে পুলিশের জালে ধরা পড়তে হলো তাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *