রাজ্যের ৫১টি আইটিআইয়ের আধুনিকীকরণে নতুন রোডম্যাপ, মিলবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ!

রাজ্যের যুবক-যুবতীদের চাকরির উপযোগী করে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে থাকা ৫১টি সরকারি আইটিআইয়ের আধুনিকীকরণের জন্য একটি নতুন রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। ‘পিএম সেতু’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত এই উদ্যোগে বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষা পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পিপিপি মডেলে নতুন ভাবনা
উচ্চ পর্যায়ের এক টেকনিক্যাল সাপোর্ট ওয়ার্কশপে কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এই নতুন রোডম্যাপের কথা ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের মূল ভিত্তি হলো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেল। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই আইটিআই প্রতিষ্ঠানগুলির মালিকানার ১৭ শতাংশ এবং পরিচালন ব্যবস্থার ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বেসরকারি সংস্থার হাতে ন্যস্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে সরাসরি গাঁটছড়া গড়ে উঠবে, যা শিক্ষাঙ্গনে কর্পোরেট জগতের কার্যপদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটাবে।
শিক্ষার্থীদের পেশাগত উৎকর্ষ ও কর্মসংস্থান
দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে হাতেকলমে কাজ করার বিপুল সুযোগ পাবেন। নামী শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তারা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের ‘ইন্ডাস্ট্রি রেডি’ বা শিল্পের উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারবেন। কোর্স সমাপ্তির পর কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক সহজলভ্য হবে এবং শিক্ষার্থীদের পেশাগত যোগ্যতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন, এই রূপায়ণ প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা বা জটিলতা তৈরি হলে তা দূর করতে রাজ্য সরকার অভিভাবকের মতো পাশে থাকবে। সার্বিকভাবে এই উদ্যোগ রাজ্যের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞমহল।