ফুটপাথ দখলমুক্ত করার কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, হকারদের জন্য আসছে বিশেষ সরকারি স্কিম!

রাজ্যের রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে হকারি আর বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন, ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার অধিকার একমাত্র জনগণের, তা জবরদখল করার অধিকার কারও নেই। সম্প্রতি কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদ এবং বুলডোজারে দোকান ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানান, মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের চেয়ে সাধারণ মানুষের সুবিধা ও নিরাপত্তা তাদের কাছে অগ্রাধিকার পাবে।
বিকল্প পুনর্বাসন ও সরকারি প্রকল্পের আশ্বাস
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের রুজি-রুটির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার যে সহানুভূতিশীল, তাও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নিউ মার্কেট, রাজাবাজার, খিদিরপুর কিংবা মেটিয়াবুরুজের মতো প্রধান ও চওড়া রাস্তার ফুটপাথ জবরদখল চলতে পারে না। তবে সরকারের যে সমস্ত খালি বা উদ্বৃত্ত জায়গা রয়েছে, যেখানে জনগণের চলাচলের কোনো সমস্যা হয় না, সেখানে হকাররা বসলে তা মানবিকতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি, হকারদের পুনর্বাসনের জন্য ধীরে ধীরে বিশেষ সরকারি স্কিম আনা হচ্ছে এবং কেন্দ্রের শ্রম স্কিমের সুবিধাও তাদের পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
রুজি-রুটির সংকট ও রাজনৈতিক বিতর্ক
গত কয়েকদিন ধরে স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ধারের দোকান ভাঙার ফলে হাজার হাজার হকার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। নতুন বিজেপি সরকারের এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যেমন প্রভাব ফেলেছে, তেমনই হকারদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। প্রথমবার এই বিষয়ে মুখ খুলে মুখ্যমন্ত্রী উচ্ছেদ হওয়া হকারদের সাময়িকভাবে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন।