রাজ্যের গ্রন্থাগার থেকে সরছে মমতার বই!

রাজ্যের গ্রন্থাগার থেকে সরছে মমতার বই!

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার পোষিত সমস্ত গ্রন্থাগার এবং স্কুল লাইব্রেরি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বিভিন্ন বই। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চিত তাঁর লেখা ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ ছড়াগ্রন্থটি। মূলত শিশুমনন গঠন ও জ্ঞানার্জনের পরিপন্থী— এমন কারণ দেখিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন।

গ্রন্থাগার মন্ত্রীর সাফ কথা

রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, লাইব্রেরি হলো জ্ঞানার্জনের জায়গা, তাই সেখানে এমন বই থাকা উচিত যা মানুষের জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার বিকাশ ঘটায়। তাঁর মতে, যে সমস্ত বই শিশুমনের বিকাশের জন্য উপযুক্ত নয়, সেগুলি সেখানে রেখে সরকারি অর্থের অপচয় করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও স্বামী বিবেকানন্দের মতো মনীষীদের বইয়ের পাশাপাশি ছত্রপতি শিবাজি এবং রানা প্রতাপের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের জীবনী গ্রন্থাগারের সংগ্রহে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিতর্ক ও পেছনের প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে রাজ্যের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলির গ্রন্থাগারে মমতার লেখা বই রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেসময় ৫১৫টি বইয়ের তালিকায় প্রায় ৯০টি বই ছিল তাঁরই লেখা এবং প্রতিটি স্কুলকে বই কেনার জন্য ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর আগে ২০২২ সালে ‘কবিতা বিতান’ কাব্যগ্রন্থের জন্য বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পেয়েও বিরোধীদের একাংশের তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক ও আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ফলেই এই বইগুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যের শিক্ষাঙ্গন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *