অমেঠির ভোটার তালিকা থেকে হঠাৎ উধাও স্মৃতি ইরানির নাম! শুরু প্রশাসনিক তদন্ত

উত্তরপ্রদেশের অমেঠি লোকসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকা থেকে আচমকাই বাদ পড়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানির নাম। তিনবার এই কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পরও কীভাবে তাঁর নাম তালিকা থেকে মুছে গেল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে ইতিমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
কীভাবে বাদ পড়ল প্রাক্তন সাংসদের নাম
উত্তরপ্রদেশে বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের কাজ চলছে। এই সংশোধিত তালিকা প্রকাশের পরই অমেঠির মেদান মাওয়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের বুথ তালিকায় স্মৃতি ইরানির নাম না থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় সরপঞ্চ বা গ্রাম প্রধান প্রথম এই ত্রুটি লক্ষ্য করেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে অমেঠিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানকার ভোটার হন স্মৃতি এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি মতো ২০২২ সালে সেখানে জমি কিনে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এই কেন্দ্রেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাক্তন একজন সাংসদের নাম এভাবে তালিকা থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার তৃণমূল স্তরে বড়সড় প্রশাসনিক গাফিলতির ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের ত্রুটি সাধারণ ভোটারদের তালিকাভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া নিয়েও জনমানসে অনাস্থা তৈরি করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্মৃতি ইরানিকে ২০২৪ সালে পরাজিত করা বর্তমান কংগ্রেস সাংসদ কিশোরী লাল শর্মাও। গৌরীগঞ্জ বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার তথা অমেঠির জেলাশাসক সঞ্জয় চৌহান জানিয়েছেন, কার ভুলে বা কোন অনিয়মের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অমেঠির জেলা বিজেপির সভাপতি সুধাংশু শুক্লা নির্বাচন দফতরে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন এবং প্রশাসনও চূড়ান্ত তালিকায় প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছে।