জ্যৈষ্ঠের অধিক মাসে বিরল সোমবতী অমাবস্যার যোগ, পুণ্য অর্জনে কখন শুরু হচ্ছে শুভ সময়?

সনাতন ধর্মে অমাবস্যা তিথির গুরুত্ব অপরিসীম, আর তা যদি সোমবার পড়ে তবে তা ‘সোমবতী অমাবস্যা’ হিসেবে বিশেষ মহিমায় মণ্ডিত হয়। আগামী জুন মাসে হিন্দু পঞ্জিকায় এক অত্যন্ত শুভ ও বিরল যোগ তৈরি হতে চলেছে। এবারের সোমবতী অমাবস্যাটি সাধারণ কোনো সময়ে নয়, বরং জ্যৈষ্ঠ মাসের ‘অধিক মাস’ বা মলমাসে পড়তে যাচ্ছে। জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গণনার কারণে এই অমাবস্যার সঠিক তারিখ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হলেও পঞ্জিকা ও জ্যোতিষবিদদের সূত্র ধরে উদযাপনের সঠিক দিনটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তারিখের বিভ্রান্তি ও উদযাপনের মূল কারণ
পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জ্যৈষ্ঠ অধিক মাসের এই অমাবস্যা তিথিটি শুরু হচ্ছে আগামী ১৪ জুন, রবিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা বেজে ৫২ মিনিটে। এই তিথিটি বজায় থাকবে পরের দিন অর্থাৎ ১৫ জুন, সোমবার রাত প্রায় ৮টা বেজে ২৮ মিনিট পর্যন্ত। সনাতন ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী, উদয়াতিথি বা যে তিথিতে সূর্যোদয় হয়, সেই দিনটিকেই উৎসব ও ব্রত পালনের জন্য প্রধান হিসেবে গণ্য করা হয়। যেহেতু ১৫ জুন সোমবার অমাবস্যা তিথি থাকাকালীনই সূর্যোদয় হবে, তাই শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে এই দিনটিতেই দেশজুড়ে সোমবতী অমাবস্যা উদযাপিত হবে।
ধর্মীয় প্রভাব এবং স্নান-দানের শুভ ক্ষণ
জ্যোতিষবিদদের মতে, অধিক মাসে সোমবতী অমাবস্যার এই সংযোগ মানবজীবনে এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনতে পারে। এই বিশেষ দিনে ব্রহ্ম মুহূর্তে (ভোর ৪:০৫ থেকে ৪:৪৫) পবিত্র স্নান এবং সকাল ৫:২৮ থেকে দুপুর ১২:১৫ পর্যন্ত পুণ্য কালে দান-ধ্যান করলে বহুগুণ পুণ্যফল লাভ হয়। বিশেষ করে পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও পিণ্ডদান করলে ‘পিতৃ দোষ’ থেকে মুক্তি মেলে বলে বিশ্বাস করা হয়। এছাড়া সোমবার মহাদেবের দিন হওয়ায় এই তিথিতে শিবলিঙ্গে রুদ্রাভিষেক, অশ্বত্থ গাছের পূজা এবং অন্ন-বস্ত্র দানে ভক্তদের জীবনের নানা জটিল সংকট ও অমঙ্গল দূর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।