আবহাওয়া মনোরম, তাও ৩ মিনিটের ‘জল বিরতি’! ফুটবলের ছন্দ কেটে বিজ্ঞাপনের পকেট ভড়াচ্ছে ফিফা

আবহাওয়া মনোরম, তাও ৩ মিনিটের ‘জল বিরতি’! ফুটবলের ছন্দ কেটে বিজ্ঞাপনের পকেট ভড়াচ্ছে ফিফা

মেক্সিকো সিটি: তাপমাত্রা মাত্র ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া একদম মনোরম, যাকে বলে চমৎকার ফুটবল খেলার পরিবেশ। অথচ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ২৪ মিনিটে হঠাৎই থামিয়ে দেওয়া হলো খেলা! কারণ? ফিফার পূর্বঘোষিত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা জলপানের বিরতি। পাক্কা তিন মিনিট বন্ধ রইল খেলা। মেক্সিকোর যে বিখ্যাত এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে দিয়েগো মারাদোনা শতাব্দীর সেরা গোল করেছিলেন, সেখানেই ম্যাচ থামিয়ে দেওয়া হলো কেবল বিজ্ঞাপনের দাপটে!

খেলার মাঝেই ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার ইয়ান ডার্ককে উৎসাহের সঙ্গে বলতে শোনা গেল, “এই হাইড্রেশন ব্রেকটি পাওয়ারএডের সৌজন্যে!” এর পরপরই স্ক্রিনে ভেসে উঠল একের পর এক নামী-দামী ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন। আর বিজ্ঞাপনের চক্করে খেলা যখন আবার শুরু হলো, ততক্ষণে গ্যালারির দর্শকদের একটা বড় অংশ বিরক্ত হয়ে মাঠ ছাড়তে শুরু করেছেন।

কোচ ও ফুটবলারদের তীব্র ক্ষোভ:

ফুটবলের এই ‘বিজ্ঞাপনী বিরতি’ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন ফুটবল দুনিয়ার তারকারা। মার্কিন কোচ মারিসিও পচেতিনো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি এটা একদমই পছন্দ করছি না। অসহ্য গরম থাকলে বিরতি দেওয়া যুক্তিযুক্ত, কিন্তু আবহাওয়া ঠিক থাকলে এর কোনও প্রয়োজন নেই।” আমেরিকার কিংবদন্তি মহিলা ফুটবলার কার্লি লয়েড সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি লিখেছেন, “আমি এই বিষয়টাকে তীব্র ঘৃণা করি!”

আসল সমস্যা হলো ফুটবলের আসল সৌন্দর্যই লুকিয়ে রয়েছে তার গতি ও ছন্দের মধ্যে। এই ধরণের জোরপূর্বক বিরতি ম্যাচের তীব্রতা পুরোপুরি কমিয়ে দিচ্ছে। উল্টে আমেরিকান স্পোর্টসের মতো ফুটবল কোচরাও এখন এই বিরতিকে নিজেদের কৌশল সাজানোর ‘টাইমআউট’ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।

খেলার থেকে বড় ব্যবসার অংক!

ফুটবল রসিকদের একাংশের দাবি, পুরো বিষয়টিই আসলে কোটি কোটি টাকার খেলা। এই বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় প্রথমবার হাজার কোটি পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে। তবুও লোভের শেষ নেই। ১০৪টি ম্যাচের প্রতিটিতে দুটি করে বিরতি মানে মোট ২০৮টি বিজ্ঞাপনের সুযোগ। একেকটি বিজ্ঞাপনী স্লটের দাম ৭ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে! ফলে ফিফা এবং সম্প্রচারকারী সংস্থা দুই পক্ষেরই পকেট ভারী হচ্ছে। খেলার ছন্দ নষ্ট হলে তাদের কী-ই বা এসে যায়!

ভবিষ্যতে অর্থাৎ ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলা হবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগালের মতো গরমের দেশে। তখন ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ যে আরও বেশি মহার্ঘ হবে এবং বিজ্ঞাপনের বাজার আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য। মাঠের খেলোয়াড়রা জল খাবেন আর টিভির দর্শকরা বিজ্ঞাপন গিলবেন—আর ফুটবলের আসল আবেগ হারিয়ে গিয়ে আড়ালে হাসবে কেবল ‘অর্থ’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *