সামশেরগঞ্জ মোথাবাড়ির মতো অশান্তি আর নয়, মালদার বৈঠক থেকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

সামশেরগঞ্জ মোথাবাড়ির মতো অশান্তি আর নয়, মালদার বৈঠক থেকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দুই দিনাজপুর জেলাকে নিয়ে আয়োজিত মালদার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি কিংবা বেলডাঙার মতো সাম্প্রতিক অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে পুলিশ ও বিএসএফের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নিজেই বিএসএফের আউটপোস্টগুলি পরিদর্শনে যাবেন।

সামাজিক প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের রূপরেখা

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রশাসনিক গাফিলতি বা ত্রুটির কারণে বেশ কিছু সামাজিক প্রকল্পের টাকা যোগ্য সুবিধাভোগীদের পরিবর্তে অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গেছে। এই সমস্যা সমাধানে এবং প্রকৃত মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে তিনি স্থানীয় বিধায়কদের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ইতিমধ্যে ৫০ লক্ষ অ্যাকাউন্টে ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে এবং দ্রুত বার্ধক্য ও বিধবা ভাতাও দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বড়সড় বদল এনে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডকে এবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনায় রূপান্তরিত করা হবে। এর ফলে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশের যেকোনো প্রান্তে বসেই নিখরচায় উন্নত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। এছাড়া, চাঁচল ও গাজোলকে পৌরসভায় উন্নীত করা এবং আগামী বর্ষার আগেই নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক কাঠামো

বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক রীতির বাইরে গিয়ে এই প্রশাসনিক বৈঠকে এক নজিরবিহীন সমন্বয় লক্ষ্য করা গেছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের না ডাকার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা ভেঙে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিরোধী দলের একাধিক বিধায়ক ও বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা। বৈঠক ঘিরে কোনো রকম আড়ম্বর বা বাড়তি খরচ না করার কড়া নির্দেশ ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। ফলে অত্যন্ত ছিমছাম পরিবেশে দলমত নির্বিশেষে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই আলোচনা সম্পন্ন হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করার এই নতুন ধারা রাজ্যের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *