তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা! ফিরহাদের অবস্থান নিয়ে রহস্য বাড়ালেন ঋতব্রত

রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে কলকাতা বন্দরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই আস্থাশীল নাকি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘নব তৃণমূল ব্লকে’ যোগ দিতে চলেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিধানসভায় দুই নবনির্বাচিত বিধায়কের শপথগ্রহণের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই জল্পনা আরও উসকে দিয়েছেন ঋতব্রত।
ফিরহাদকে ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য
গত ৮ জুন বিধানসভায় সন্দীপন সাহার হাত ধরে ঋতব্রতর ঘরে গিয়েছিলেন ফিরহাদ এবং সেখানে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তাঁর আসার কথা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন, যা এই দলবদলের জল্পনাকে আরও জোরালো করে। ফিরহাদের যোগদানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কৌশলে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা এড়িয়ে যান। বরং তিনি জানান, বিধানসভার অধিবেশন শুরু হলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার আসল চিত্রটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। আগামী সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যে তাঁর ব্লকে বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।
দলের অন্দরে মতবিরোধ ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দলের প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও পরোক্ষ সমর্থন শোনা গিয়েছে ঋতব্রতর গলায়। তাঁর দাবি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তা আসলে তাঁদের ব্লকের সমষ্টিগত দীর্ঘদিনের বক্তব্য। এছাড়াও, এদিন চণ্ডীতলার তৃণমূল বিধায়ক স্বাতী খন্দকারের শপথ অনুষ্ঠানে ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহার উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের অভ্যন্তরে এই ধরনের প্রকাশ্য অসন্তোষ এবং ‘নব তৃণমূল ব্লক’-এর ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি আগামী দিনে বিধানসভার অঙ্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা দলটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।