বিদ্যুৎ বিলে আমূল বদল এনে রাজ্যে আসছে স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার, জেনে নিন কত টাকার রিচার্জে কতদিন চলবে বিদ্যুৎ!

ভীষণ গরমে এসি বা কুলার ব্যবহারের পর মাসের শেষে বিদ্যুতের মোটা বিলের দুশ্চিন্তা এবার দূর হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুতের অপচয় রুখতে এবং বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে চালু হতে যাচ্ছে স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কো ম্পা নি লিমিটেড (ডব্লিউবিএসইডিসিএল) আগামী ১ অগস্ট থেকে রাজ্যের প্রায় ৯২ হাজার সরকারি অফিসে পরীক্ষামূলকভাবে এই মিটার চালু করতে যাচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে সাধারণ গ্রাহকদের বাড়িতেও এই প্রি-পেইড মিটার বসানো হবে। মোবাইলের মতোই এই ব্যবস্থায় আগে রিচার্জ করতে হবে, তারপর মিলবে বিদ্যুৎ পরিষেবা। ব্যালেন্স শেষ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি খরচ এবং রিচার্জের নিয়ম
নতুন এই ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে খরচ নির্ধারিত হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, শূন্য থেকে ২৫ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের দাম ৫ টাকা, ২৬ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ৫ টাকা ৬০ পয়সা, ৭১ থেকে ১৫০ ইউনিট পর্যন্ত ৬ টাকা ২০ পয়সা, ১৫১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত ৭১ টাকা এবং ৩০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে ৮ টাকা হারে খরচ হবে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে ন্যূনতম ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ বা ৫০০ টাকার রিচার্জের সুযোগ থাকছে। তবে ব্যবহারের তারতম্য এবং দৈনিক ফিক্সড চার্জ কাটার কারণে রিচার্জের মেয়াদ একেক পরিবারে একেক রকম হবে।
১০০, ২০০ ও ৫০০ টাকার রিচার্জে কতদিন চলবে বিদ্যুৎ
বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্মার্ট মিটারে বেশি টাকার রিচার্জ করাই বেশি সাশ্রয়ী। ফিক্সড চার্জের হিসাব মাথায় রাখলে, দৈনিক ৩-৪ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয় এমন পরিবারে ১০০ টাকার রিচার্জ মাত্র ২ থেকে ৩ দিন চলতে পারে, যা মাসিক হিসাবে গ্রাহকের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, শুধু টিভি, ফ্যান, ফ্রিজ ও কয়েকটি এলইডি লাইট ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য ২০০ টাকার রিচার্জে প্রায় ৫ থেকে ৭ দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল থাকতে পারে। তবে সবচেয়ে সাশ্রয়ী হলো ৫০০ টাকার রিচার্জ। এই অঙ্কের রিচার্জে দৈনিক ৩-৪ ইউনিট খরচের ভিত্তিতে ১৫ থেকে ১৬ দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ চালানো সম্ভব। তবে বাড়িতে এসি, গিজার বা কোনো পুরোনো ভারী যন্ত্রপাতি চললে রিচার্জ আরও দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।
এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাবে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আসবে। একদিকে যেমন বিদ্যুতের অপচয় কমবে এবং বিদ্যুৎ দপ্তর বকেয়া বিলের বোঝা থেকে মুক্তি পাবে, অন্যদিকে গ্রাহকদেরও তাদের দৈনিক খরচের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে। ব্যালেন্স শূন্য হলেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার নিয়ম থাকায় তাৎক্ষণিক রিচার্জের প্রস্তুতি বজায় রাখা প্রতিটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠবে।