তৃণমূল ও এনসিপি মিশে গিয়ে তৈরি হচ্ছে অখণ্ড কংগ্রেস!

জাতীয় রাজনীতিতে ফের পুরনো দলগুলিকে নিয়ে ‘অখণ্ড কংগ্রেস’ তৈরির জল্পনা তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সংযুক্তির খবরকে ভিত্তিহীন বলে ওড়ালেও, মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শরদ পওয়ারের দল কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জোট নয়, সমমনস্ক এই দলগুলির সরাসরি কংগ্রেসে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয়।
একজোট হওয়ার কারণ ও তৎপরতা
মূলত দেশজুড়ে বড় মাপের ভোট বিভাজন রুখতে এবং ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলোকে এক ছাতার তলায় আনতেই এই একত্রীকরণের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে। নানা পাটোলের দাবি, শরদ পওয়ারের তরফ থেকেই প্রথমে এই সংযুক্তির প্রস্তাব এসেছিল। শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত এবং প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলটও এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক দলগুলির এবার মূল দলে ফিরে এসে রাহুল গান্ধীকে নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত। এতে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধী জোটের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলেও বিষয়টিকে একটি ‘ভালো প্রস্তাব’ বলে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও সম্ভাব্য প্রভাব
ঐতিহাসিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শরদ পওয়ার দুজনেই কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যথাক্রমে ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে নিজেদের দল গঠন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে এই দুই আঞ্চলিক দলই তীব্র অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের সম্মুখীন। ২০২৩ সালে অজিত পওয়ারের বিদ্রোহে এনসিপি ইতিমধ্যেই দ্বিখণ্ডিত। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও বর্তমানে বড়সড় ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে। দলে ৬৪ জন বিধায়ক এবং লোকসভায় ১৯ জন সাংসদ আলাদা ফ্রন্ট গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, পাশাপাশি ইস্তফা দিয়েছেন একাধিক প্রথম সারির রাজ্যসভার সাংসদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের দলের এই চূড়ান্ত ভাঙন রুখতে এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই তৃণমূল ও এনসিপি অখণ্ড কংগ্রেসের ছায়ায় ফিরতে চাইছে। এই মার্জার সফল হলে তা বিরোধী ঐক্যে নতুন প্রাণসঞ্চার করবে এবং আগামিদিনে দেশের সামগ্রিক ভোটব্যাঙ্ক ও রাজনৈতিক সমীকরণে এক যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে।