তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির পথে রচনা! গেরুয়া শিবিরের মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টায় তুঙ্গে জল্পনা

রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ প্রকট হচ্ছে শাসকদলের অন্দরের ফাটল। আর এই ফাটলের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার উঠে এসেছেন হুগলির সাংসদ তথা তারকা নেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় নাম লেখানোর পর, এবার রাজ্যের এক বিজেপি মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের খবর রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
সৌজন্যের আড়ালে রাজনৈতিক সমীকরণ
সূত্রের খবর, রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকারকে ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন রচনার আপ্তসহায়ক। হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বলাগড় বিধানসভার বিধায়ক সুমনাকে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন সাংসদ। আপাতদৃষ্টিতে এটি সৌজন্যমূলক মনে হলেও, এর নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের আবহে, ভোট গণনার পর গেরুয়া আবির মাখা বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে রচনার সেলফি তোলা এবং দিল্লিতে বিদ্রোহী ব্লকে যোগদানের মতো ঘটনাগুলি প্রমাণ করছে যে তিনি পুরনো দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন।
সতর্ক গেরুয়া শিবির ও সম্ভাব্য প্রভাব
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন মন্ত্রী সুমনা সরকার। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সাংসদ সৌজন্যের বার্তা দিলেও দলের গাইডলাইনের বাইরে তিনি কোনো পদক্ষেপ করবেন না। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ এবং তৃণমূল স্তরের যে কর্মীরা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন, তাঁদের মতামতকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। মন্ত্রীর এই অবস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এটি স্পষ্ট করে যে শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেত এবং নিচুতলার কর্মীদের সমর্থন ছাড়া বিরোধী শিবিরের নেতাদের সহজে জায়গা ছাড়তে নারাজ বিজেপি। অন্যদিকে, এই বিষয়ে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি নীরব থেকেছেন, যা তাঁর আগামী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।