নিউ মার্কেটের রাস্তা দখল করা যাবে না! হকার উচ্ছেদে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

সম্প্রতি কলকাতা, হাওড়া থেকে শুরু করে ডানকুনি পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদ ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই বিতর্কের মাঝেই প্রথমবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, রাস্তা দিয়ে হাঁটার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে এবং সেই জায়গা দখল করার অধিকার কারও নেই।
জনগণের স্বার্থই সর্বাধিক অগ্রাধিকার
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া পদক্ষেপের মূল কারণ হলো শহরের যানজট কমানো এবং সাধারণ মানুষের হাঁটার জায়গা সুনিশ্চিত করা। নিউ মার্কেট, রাজাবাজার বা খিদিরপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি পুরোপুরি হকারদের দখলে চলে যাওয়ায় তীব্র সমস্যা তৈরি হচ্ছিল, যেখানে সাধারণের হাঁটা বা গাড়ি চলাচলের উপায় ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর স্বার্থের চেয়ে বৃহত্তর জনগণের সুবিধাই সরকারের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই উচ্ছেদের ফলে শহরগুলি দখলমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি যানজট কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে উচ্ছেদের জেরে হকারদের জীবিকায় যে প্রভাব পড়তে পারে, তা সামাল দিতে মানবিক উদ্যোগেরও আশ্বাস দিয়েছে সরকার। অব্যবহৃত সরকারি জমিতে হকারদের পুনর্বাসন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদের সহায়তার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
শিল্প ও বিনিয়োগে নতুন দিশা
রাস্তাঘাট দখলমুক্ত করার পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশেও জোর দিয়েছে সরকার। পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে এবং বেকার সমস্যার সমাধানে শিল্পায়নকে পাখির চোখ করা হয়েছে। সিঙ্গুরের অব্যবহৃত জমিতে পুনরায় শিল্পের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলে টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও, রাজ্যে সুস্থ বিনিয়োগের পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যাংক বা জমি জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং শিল্পমুখী এই জোড়া পদক্ষেপ রাজ্যের সার্বিক পরিকাঠামো ও অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।