তৃণমূলে নজিরবিহীন ধস, ২০ সাংসদের সই প্রকাশ্যে আসতেই ম্যাজিক ফিগার নিয়ে হুঙ্কার শতাব্দীর!

তৃণমূলে নজিরবিহীন ধস, ২০ সাংসদের সই প্রকাশ্যে আসতেই ম্যাজিক ফিগার নিয়ে হুঙ্কার শতাব্দীর!

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রীর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ, যা এবার সংসদীয় দলেও স্পষ্ট ফাটল ধরাল। এই আবহে তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের স্বাক্ষর-সম্বলিত একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। লোকসভায় আলাদা ব্লক গঠন করার লক্ষ্যে এই সাংসদেরা একজোট হয়েছেন বলে জানা গেছে।

চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই শতাব্দীর বড় দাবি

বিদ্রোহী ব্লকের ডেপুটি লিডার তথা সাংসদ শতাব্দী রায় এই ঘটনা প্রসঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা আগেই দাবি করেছিলেন তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’ রয়েছে এবং এই চিঠির মাধ্যমে এখন তার প্রমাণ মিলল। শতাব্দী রায়ের মতে, এতদিন যাঁরা তাঁদের শক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন, এই ঘটনা তাঁদের সমস্ত দাবিকে ভুল প্রমাণিত করেছে। লোকসভার স্পিকার দিল্লিতে না থাকায় এবং নিজেদের কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন, যার পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভাঙনের নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ই এই নজিরবিহীন বিদ্রোহের প্রধান কারণ। দলনেত্রী দিল্লিতে থাকাকালীনই একদল নেতা বৈঠক করে নিজেদের ভিন্ন অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছিলেন। এবার প্রকাশ্যে আসা চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, দীপক অধিকারী (দেব), জুন মালিয়া এবং ইউসূফ পাঠানের মতো হেভিওয়েট ও তারকা সাংসদদের নাম ও স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে।

এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সংসদীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। বিদ্রোহী সাংসদেরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আলাদা ব্লক গঠনের আর্জি জানিয়েছেন। যদি এই আবেদন মঞ্জুর হয়, তবে জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি এক ধাক্কায় বহুলাংশে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে, বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই সংসদীয় দলে এই বিশাল ধস রাজ্য রাজনীতিতে দলটির ভবিষ্যৎ ও নেতৃত্বকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *