দুর্ঘটনা না ঘটলে কেন খোলে না চোখ, মানুষের চিরন্তন স্বভাবের আয়না আফ্রিকার এই প্রবাদ!

দুর্ঘটনা না ঘটলে কেন খোলে না চোখ, মানুষের চিরন্তন স্বভাবের আয়না আফ্রিকার এই প্রবাদ!

যুগে যুগে লোকমুখে প্রচলিত প্রবাদগুলি কেবল কথামালার অংশ নয়, বরং সমাজ ও মানুষের জীবনদর্শনের গভীর প্রতিফলন। আফ্রিকা মহাদেশে বহু প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত একটি বিখ্যাত প্রবাদ হলো, “কেউ জলে পড়ার পরই সেতু মেরামত হয়।” এই আপাত সরল উক্তিটির অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে মানব চরিত্রের এক চিরন্তন ও বৈশ্বিক সত্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কোনো বড় বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত আমাদের ঘুম ভাঙে না। এই প্রবাদটি মূলত মানুষের সেই উদাসীন মানসিকতাকেই নির্দেশ করে, যেখানে সংকটের আগে সতর্ক না হয়ে বড় কোনো ক্ষতির পর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

উদাসীনতা ও সংকটের পরেই বাড়ে তৎপরতা

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, যখন বইখাতা বা ইন্টারনেটের অস্তিত্ব ছিল না, তখন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা ও গভীর জীবনবোধের ওপর ভিত্তি করে এই প্রবাদগুলো তৈরি হয়েছিল। মানুষের একটি সাধারণ স্বভাব হলো বিপদের লক্ষণ আগে থেকে বুঝতে পেরেও তা এড়িয়ে যাওয়া। যতক্ষণ না পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, ততক্ষণ পদক্ষেপ নিতে অনীহা প্রকাশ পায়। রোজকার জীবনে প্রতিনিয়ত এর প্রমাণ মেলে। যেকোনো ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে বিপদ রুখে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হলেও, মানুষ সাধারণত চরম আঘাত পাওয়ার পরই সচেতন হয়ে ওঠে। এই দীর্ঘস্থায়ী উদাসীনতাই অনেক সময় বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

দূরদর্শিতা ও আগাম প্রস্তুতির শিক্ষা

এই প্রবাদে ব্যবহৃত ‘সেতু’ শব্দটি আসলে মানুষের জীবনের যেকোনো পরিকল্পনা, নিয়ম বা প্রস্তুতির প্রতীক। অন্যদিকে ‘জলে পড়া’ বলতে বোঝানো হয়েছে আকস্মিক কোনো দুর্ঘটনা, ব্যর্থতা বা সংকটকে। আফ্রিকার এই প্রাচীন প্রবাদটি চোখে আঙুল দিয়ে শিখিয়ে দেয় যে, সমস্যা তৈরি হওয়ার পর সমাধান খোঁজার চেয়ে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি। বিপদের প্রথম লক্ষণ দেখামাত্রই যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, তবে যেকোনো বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। দূরদর্শিতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে আগাম প্রস্তুতি বজায় রাখলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *