সিআইডির জোড়া তলবের মুখে তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অভিষেক!
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,900&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা নিয়ে নতুন করে পারদ চড়ল। ডিজে মামলা এবং সই জালিয়াতির তদন্তে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জোড়া নোটিস পাঠাল রাজ্য সিআইডি। শুক্রবার সাড়ে চারটে নাগাদ সিআইডি-র একটি দল নোটিস দিতে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছায়। তবে দলনেত্রীর বাড়িতে পূর্ব নির্ধারিত দলীয় বৈঠক থাকায় অভিষেক তখন উপস্থিত ছিলেন না। প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর সিআইডি দল বেরিয়ে গেলেও, অভিষেক বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই তদন্তকারীরা আবার ফিরে এসে তাঁর হাতে নোটিস তুলে দেন। নতুন নোটিস অনুযায়ী, সই জালিয়াতির মামলায় আগামী ১৪ জুন এবং ডিজে মামলায় ১৬ জুন তাঁকে ভবানীভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে।
বাড়ি ফিরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলনেত্রীর বাড়িতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলায় তাঁর ফিরতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, তিনি কখনও তদন্ত এড়িয়ে যাননি এবং অতীতেও দিল্লির কেন্দ্রীয় সংস্থা থেকে শুরু করে কলকাতার নিজাম প্যালেস ও সিজিও কমপ্লেক্সের সব ডাকেই সাড়া দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত হলেও, তদন্ত প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।
জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য ফাঁস ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
বৃহস্পতিবার আদালতের রক্ষাকবচ পাওয়ার পর ভবানীভবনে প্রায় ৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক। সেই ঘটনার উল্লেখ করে তিনি সিআইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভেতরে কী কী আলোচনা হয়েছে তা তিনি বাইরে কাউকে না জানালেও, বাড়ি পৌঁছানোর আগেই সংবাদমাধ্যমে সেইসব তথ্য বিস্তারিতভাবে প্রকাশ হয়ে গেছে। তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকেই এই তথ্য লিক হয়েছে বলে দাবি করে তিনি এর বিরুদ্ধে আগামীতে হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক মঞ্চেও সুর চড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, সিআইডি বা সিবিআই দিয়ে তৃণমূলকে দমানো যাবে না। দল ভাঙানোর রাজনীতি করে কোনো লাভ হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৃণমূল ২ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের ভোট পেয়েছে এবং একচুল জায়গাও ছাড়বে না। এই ঘটনার কারণে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে সিআইডির এই জোড়া তলব এবং অন্যদিকে অভিষেকের আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি রাজ্য রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।