‘বছরে ৮০ লাখের আয় বা উচ্চবর্ণের বর চাই!’ আইপিএস কন্যার অদ্ভুত শর্তে তোলপাড় নেটদুনিয়া

নয়াদিল্লি: বিয়ের বাজারে পাত্র বা পাত্রী খোঁজার ক্ষেত্রে পছন্দ-অপছন্দ থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু পাত্রের যোগ্যতা নিয়ে এবার এমন এক অদ্ভুত শর্ত জুড়ে দিলেন এক তরুণী, যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাত্রী কোনো সাধারণ ঘরের মেয়ে নন, খোদ এক আইপিএস (IPS) অফিসারের কন্যা। তাঁর সাফ কথা— হবু স্বামীকে হয় ‘উচ্চবর্ণের’ হতে হবে, আর তা না হলে বছরে অন্তত ৮০ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে হবে!
‘ডেট ক্রু’ (Date Crewe) নামের একটি ম্যাচমেকিং বা পাত্র-পাত্রী সন্ধান দেওয়া প্ল্যাটফর্মের সিইও (CEO) ওন্দ্রিলা কাপুর সম্প্রতি তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইলে এই ঘটনার কথা ফাঁস করেছেন। আর তারপর থেকেই জাতপাত ও টাকা পয়সার এই মেলবন্ধন নিয়ে নেটপাড়ায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
কী সেই অদ্ভুত শর্ত?
৩২ বছর বয়সী ওই তরুণী পেশায় একটি ফ্যাশন কো ম্পা নির মালকিন। তাঁর বাবা একজন আইপিএস অফিসার এবং মা শিক্ষিকা। এত উচ্চশিক্ষিত পরিবার থেকে এসেও বিয়ের ক্ষেত্রে তরুণীর এমন মানসিকতা দেখে থ বনে গেছেন অনেকেই। ওন্দ্রিলা কাপুর জানিয়েছেন, ওই তরুণী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কেবল ব্রাহ্মণ, রাজপুত বা এই ধরনের কিছু নির্দিষ্ট উচ্চবর্ণের পাত্রকেই বিয়ে করবেন। তবে আন্তঃবর্ণ বিয়ের (Inter-caste marriage) ক্ষেত্রেও তাঁর আপত্তি নেই, তবে সে ক্ষেত্রে রয়েছে এক কঠিন শর্ত— পাত্রের বার্ষিক আয় হতে হবে ন্যূনতম ৮০ লক্ষ টাকা! অর্থাৎ তাঁর নীতি হলো, হয় জাতের জোর থাকতে হবে, না হলে টাকার গরম।
নেটিজেনদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই পোস্টটি ভাইরাল হতেই সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এক নেটিজেন ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “ভারতে বিয়েটা এখন কেবলই একটা আর্থিক লেনদেনে পরিণত হয়েছে।” অন্য একজন লিখেছেন, “আমাদের দেশে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের ক্ষেত্রে এটা খুবই সাধারণ বিষয়। এখানে দুটি পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদাকেই আগে মাপা হয়।” তবে অনেকে আবার ম্যাচমেকিং সংস্থার সিইও ওন্দ্রিলার দিকেও আঙুল তুলেছেন। তাঁদের দাবি, নিজের ওয়েবসাইটের প্রচার বাড়াতেই হয়তো তিনি এই ধরনের গল্প তৈরি করছেন। সমালোচনা যেটাই হোক, আইপিএস কন্যার এই আজব ডিমান্ড কিন্তু এই মুহূর্তে ইন্টারনেটে হট টপিক।