এবার বড়সড় আইনি বিপাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগে দায়ের হলো এফআইআর

বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই আবহে এবার আরও এক বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। নির্বাচনী প্রচারের সময় বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হলো এফআইআর (FIR)। কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় এই গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

৯ মার্চের বিতর্কিত মন্তব্য এবং অভিযোগের সূত্রপাত

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছিল গত মার্চ মাসে। ৯ মার্চ একটি ধর্নামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “একটা সম্প্রদায় জোট বাঁধলে ১২টা বাজিয়ে দেবে। সেটা এড়াতে বিজেপির অপপ্রচারে কান দেবেন না।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই গত ২০ মে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র রোডের এক বাসিন্দা নেতাজিনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগকারীর দাবি, সরাসরি কোনও সম্প্রদায়ের নাম না নেওয়া হলেও, এহেন মন্তব্যের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মারাত্মকভাবে নষ্ট হতে পারে। প্রথমে নেতাজিনগর থানায় অভিযোগটি জমা পড়লেও, পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে তা ‘জিরো এফআইআর’ হিসেবে হেয়ার স্ট্রিট থানায় স্থানান্তরিত করা হয়।

কী কী ধারায় মামলা রুজু হলো?

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত উস্কানিমূলক ও হিংসাত্মক। এটি একাধিক সম্প্রদায়ের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের শান্তি ও শৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করে তুলতে পারে, যা সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী। এছাড়াও নির্বাচনের আগে এহেন বক্তব্য আদর্শ আচরণ বিধি লঙ্ঘনের শামিল বলেও মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ও অশান্তি ছড়ানোর দায়ে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬(১) ধারা-সহ মোট তিনটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের সভা চলাকালীন করা অন্য একটি মন্তব্যের জেরেও তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি নতুন অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও কংগ্রেসের সঙ্গে সংযুক্তির জল্পনা

১৯৯৮ সালে জাতীয় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ নতুন দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বঙ্গে ক্ষমতায় এলেও, সাম্প্রতিক পালাবদলের পর দলটির রাশ এখন অনেকটাই হাতছাড়া। এই চরম দুর্দিনের মাঝেই জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের খবর, তৃণমূলকে পুনরায় মূল কংগ্রেসের সঙ্গে মার্জ বা একীভূত করার একটি প্রস্তাব এসেছে। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়— দু’জনকেই সর্বভারতীয় স্তরে বড় পদের টোপ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আইনি জটলা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এই জোড়া ফলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আগামী দিনের পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *