শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে মুগ্ধ তৃণমূলের বাইরন থেকে সিপিএমের রানা, সংখ্যালঘু এলাকার উন্নয়নে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর!

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধীদের সর্বদা স্বাগত জানানো হবে— নিজের এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এক নজিরবিহীন নজির গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের চার জেলার শাসক ও বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি মেগা প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। প্রায় দুই ঘণ্টার এই দীর্ঘ আলোচনা শেষে দলমতনির্বিশেষে তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেসের বিধায়কেরা মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও কার্যপদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা করলেন। তৃণমূলের বাইরন বিশ্বাস থেকে শুরু করে সিপিএমের মুস্তাফিজুর রহমান রানা— সকলেই প্রকাশ্যে জানালেন যে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের কথা অত্যন্ত মন দিয়ে শুনেছেন।
মালদহ কলেজে দুই ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক
শুক্রবার মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রশাসনিক আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মালদহ কলেজ অডিটোরিয়ামে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ৩টে ২৫ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রী সভাস্থলে প্রবেশ করেন এবং প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে প্রতিটি এলাকার সমস্যা খতিয়ে দেখেন। বৈঠকে চার জেলার প্রত্যেকটি বিধানসভার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিরোধী বিধায়ক এবং সাংসদদের কাছ থেকে তাঁদের নিজ নিজ এলাকার সুনির্দিষ্ট সমস্যার কথা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী এবং দ্রুত সেগুলি সমাধানের আশ্বাস দেন।
নদীভাঙন থেকে সীমান্ত সমস্যা, গুরুত্ব পেল একাধিক জরুরি ইস্যু
প্রশাসনিক এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে:
- সীমান্ত ও কাঁটাতার সমস্যা: চার জেলার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি সংক্রান্ত জট কেটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে খোঁজ নেন।
- নদীভাঙন ও বন্যা: মালদহ ও মুর্শিদাবাদের অন্যতম প্রধান অভিশাপ নদীভাঙন এবং প্রতি বছরের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্থায়ী সমাধান খোঁজার বিষয়ে আলোচনা হয়।
- নতুন পুরসভা গঠন: মালদহের চাঁচল এবং গাজলে নতুন পুরসভা তৈরির বিষয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘সংখ্যালঘুরা বঞ্চিত হবেন না’, বড় বার্তা শুভেন্দুর
বৈঠকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার জনপ্রতিনিধিরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান, সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেন কোনও রকম রাজনৈতিক বা ধর্মীয় দ্বিচারিতা না করা হয়। তাঁদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নতুন সরকারের আমলে সংখ্যালঘুরা কোনওভাবেই বঞ্চিত হবেন না। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সমান নজর দেবে তাঁর সরকার।
সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস জানান, তাঁরা এখন বিরোধী আসনে থাকলেও তাঁদের মতো সংখ্যালঘু এলাকার প্রতিনিধিদের মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে উন্নয়নের কাজে কোনও খামতি হবে না।
আমন্ত্রণে সাড়া তৃণমূলের, ডাক পাননি ইশা খাঁ
রাজনৈতিকভাবে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। মালদহ জেলার তৃণমূলের ৬ জন বিধায়কের সকলেই এবং মুর্শিদাবাদের ৮ জন তৃণমূল বিধায়ক এই সরকারি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তবে আমন্ত্রণের তালিকায় কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী। তিনি জানান, মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস বিধায়ক ও সাংসদেরা আমন্ত্রণ পেলেও তাঁর কাছে কোনও মেইল বা প্রশাসনের তরফে ফোন আসেনি, যার কারণে তিনি বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। তবে সামগ্রিকভাবে শুভেন্দু অধিকারীর এই সর্বদলীয় প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ মানুষের মনে পজিটিভ বার্তা দিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।