হাওড়া স্টেশনের পর এবার শালিমারে চলল বুলডোজার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো একাধিক বেআইনি দোকান!

হাওড়া স্টেশনের পর এবার রেল ও বন্দর সংলগ্ন এলাকা শালিমারে চলল প্রশাসনের বুলডোজার। শুক্রবার শালিমার কয়লা ডিপো এলাকায় এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো রাস্তার দু’ধারে গড়ে ওঠা একাধিক বেআইনি দোকান ও অবৈধ নির্মাণ। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের জমিতে দীর্ঘ দিন ধরে এই দখলদারি চলছিল বলে অভিযোগ।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের যৌথ অপারেশন

শালিমার কয়লা ডিপো এলাকার এই উচ্ছেদ অভিযানটি মূলত কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিবপুর থানার পুলিশের যৌথ সহযোগিতায় চালানো হয়। অভিযান চলাকালীন যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। দুটি বড় জেসিবি (JCB) বা বুলডোজার নামিয়ে রাস্তার দু’পাশের সমস্ত অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী দিনেও এই ধরণের দখলদারি বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বর্ষার আগেই রাস্তা সম্প্রসারণের বড় লক্ষ্য

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ নির্বাচনের আগেই এই কয়লা ডিপো এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণ এবং হাই ড্রেন তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছিল। তবে ভোটের কারণে সেই কাজ সাময়িকভাবে থমকে যায়। ভোট মিটতেই বর্ষা নামার আগে দ্রুত এই উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু রাস্তার দু’ধারে গজিয়ে ওঠা বেআইনি দোকানগুলির কারণে কাজ এগোতে সমস্যা হচ্ছিল, যার জেরেই এই কঠোর পদক্ষেপ।

‘ভোটের পরেই উচ্ছেদ’, ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা

প্রশনের এই আচমকা বুলডোজার অভিযানে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। উচ্ছেদের জেরে রুটিরুজি হারানো ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশের অভিযোগ, “ভোটের আগে যখন নেতারা হাত জোড় করে ভোট চাইতে এসেছিলেন, তখন তো এই দখলদারিকে বেআইনি মনে হয়নি। আর ভোট দেওয়া শেষ হতেই সাধারণ মানুষের দোকানপাট ভেঙে দেওয়া হলো। আগামী নির্বাচনে ব্যালট বক্সেই এর যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।”

হাওড়া স্টেশনের উচ্ছেদের জের

উল্লেখ্য, মে মাসেই হাওড়া স্টেশনের বাইরে এক বিশাল নৈশ অভিযান চালিয়ে ফুটপাথের প্রায় ১৫০টিরও বেশি অবৈধ দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। স্টেশন চত্বরকে যানজটমুক্ত করতে এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার শালিমারেও একই রকম কঠোর অবস্থান নিল প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *