সাংসদ কঙ্গনার সরকারি বেতন ও বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান দেখে চোখ ছানাবড়া আমজনতার!

বলিউডের রুপোলি পর্দা কাঁপিয়ে এখন রাজনীতির ময়দানেও সমানভাবে চর্চায় রয়েছেন কঙ্গনা রানাউত। হিমাচল প্রদেশের মান্ডি নির্বাচনী এলাকার এই বিজেপি সাংসদ সম্প্রতি তাঁর সর্বশেষ ছবি ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’-তে এক নার্সের চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন। তবে এবার তাঁর অভিনয়ের চেয়েও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তাঁর বিপুল সম্পত্তির পরিমাণ এবং সাংসদ হিসেবে প্রাপ্ত সরকারি বেতন ও সুযোগ-সুবিধার খতিয়ান, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
সরকারি বেতন ও আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা
জনপ্রতিনিধি হিসেবে কঙ্গনা রানাউত প্রতি মাসে একটি বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ পেয়ে থাকেন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দেশ জুড়ে সাংসদদের বেতন ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পর বর্তমানে তাঁর মাসিক মূল বেতন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.২৪ লক্ষ টাকা। এর বাইরেও তিনি প্রতি মাসে নির্বাচনী এলাকা ভাতা বাবদ ৮৭ হাজার টাকা এবং অফিসের কর্মচারীদের বেতন ও স্টেশনারি খরচ হিসেবে ৭৫ হাজার টাকা পান। কর্তব্যরত দিনগুলোতে দৈনিক ২,৫০০ টাকা ভাতার পাশাপাশি তিনি প্রতি বছর ৩৪টি বিনামূল্যে অভ্যন্তরীণ বিমান যাত্রা এবং দেশজুড়ে প্রথম শ্রেণীর ট্রেনের পাস উপভোগ করেন। নতুন দিল্লিতে আসবাবপত্রসহ বিনামূল্যে সরকারি আবাসন, প্রতি বছর ৫০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ, ৪ হাজার কিলোলিটার জল, উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে টেলিফোন কলের সুবিধাসহ কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পান এই তারকা সাংসদ।
আকাশছোঁয়া মোট সম্পত্তি ও বলিউড থেকে আয়
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, কঙ্গনার মোট সম্পদের পরিমাণ সত্যিই চোখ ধাঁধানো। হলফনামায় তিনি ৯১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের মোট সম্পদ এবং ১৭ কোটি টাকার বেশি দেনার কথা উল্লেখ করেছেন, যার ফলে তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে তাঁর প্রায় ২৮.৭৩ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে এবং নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘মণিকর্ণিকা ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেড’ ও ‘মণিকর্ণিকা স্পেস এলএলপি’-তে প্রায় ১.২১ কোটি টাকার শেয়ার রয়েছে। রাজনীতিতে যোগ দিলেও বিনোদন দুনিয়ায় তাঁর প্রতিপত্তি কমেনি, বরং প্রতি সিনেমার জন্য তিনি বর্তমানে ১৫ থেকে ২৭ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন।
একজন প্রথম সারির তারকা যখন সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন, তখন তাঁর জীবনযাত্রা এবং আয়ের উৎস নিয়ে জনমানসে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কঙ্গনার এই বিপুল আর্থিক খতিয়ান এবং সেই সাথে সরকারি সুযোগ-সুবিধার প্রাপ্তি স্পষ্ট করে দেয় যে, গ্ল্যামার জগৎ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি এক অনন্য ও প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছেন, যা ভারতীয় রাজনীতি ও বিনোদন জগতের মেলবন্ধনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।