তৃণমূলের অন্দরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ! ইস্তফা মালা রায়ের, দল ভাঙার পথে ১৯ সাংসদ

তৃণমূলের অন্দরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ! ইস্তফা মালা রায়ের, দল ভাঙার পথে ১৯ সাংসদ

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি বাড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে চরম ভাঙনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। দলের সর্বভারতীয় স্তরে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ থেকে পদত্যাগ করলেন কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ ও দীর্ঘদিনের মমতা-অনুগামী মালা রায়। ইস্তফাপত্রে তিনি ‘ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করলেও, রাজনৈতিক মহলের মতে এই পদক্ষেপ দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহেরই এক বড় বহিঃপ্রকাশ।

মহারাষ্ট্র মডেলে ভাঙনের ছক

সূত্রের খবর, সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা এনসিপি-র ধাঁচে দল ভাঙার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছেন। লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ১৯ জনের সমর্থন বিদ্রোহী শিবিরের কাছে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। স্পিকারকে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা বিক্ষুব্ধদের তালিকায় ১৮ নম্বরে স্বাক্ষর রয়েছে মালা রায়ের। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই বিদ্রোহী তালিকায় শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দীপক অধিকারী (দেব), জুন মালিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইউসুফ পাঠানের মতো তারকা ও হেভিওয়েট সাংসদদের নাম জড়িয়েছে। বিদ্রোহীরা লোকসভা ও বিধানসভায় নিজেদেরই মূল ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে দাবি করে ভবিষ্যতে কেন্দ্রে এনডিএ জোটে শামিল হতে পারেন বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই মেগা ভাঙনের সূত্রপাত ঘটে প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। সুস্মিতা দেব ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়ে আসামে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দলের প্রতি ক্ষোভ, একসঙ্গে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার অনীহা এবং সর্বভারতীয় স্তরে তৃণমূলের রাজনৈতিক ন্যারেটিভ বা প্রাসঙ্গিকতা হারানোর ফলেই এই গণ-বিদ্রোহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই নজিরবিহীন দলত্যাগের জেরে তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে। একদিকে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্যে কড়া প্রশাসনিক হাইভোল্টেজ অ্যাকশন চলছে, অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই ধস ঘাসফুল শিবিরকে জাতীয় রাজনীতিতে আক্ষরিক অর্থেই পঙ্গু করে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *