জেরার রেশ না কাটতেই জোড়া নোটিস, চাপের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
.jpeg.webp?w=800&resize=800,449&ssl=1)
ভবানী ভবনে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, এরই মধ্যে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপ আরও বাড়াল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (CID)। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’টি ভিন্ন মামলায় ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডের পাশাপাশি নির্বাচনী জনসভায় ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত প্রচ্ছন্ন হুমকির মামলাতেও তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৪ জুন এবং ১৬ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কালীঘাটে সিআইডি হানা ও আইনি জটিলতা
শুক্রবার বিকেলে বাগুইআটি এবং সল্টলেক সাইবার ক্রাইম থানার এফআইআর-এর সূত্র ধরে সিআইডির একটি বিশেষ দল কালিঘাটে অভিষেকের বাসভবনে পৌঁছায়। লক্ষ্য ছিল, ভোট প্রচারের সময় বিতর্কিত মন্তব্যের মামলায় তাঁকে নোটিস ধরানো। তবে অভিষেক সে সময় বাড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়। সাংসদ উপস্থিত না থাকায় নোটিস কে গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ টানাপোড়েন চলে। বৈঠক থেকে বেরিয়ে অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর লুকোনোর কিছু নেই এবং তিনি সব রকম তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে গোয়েন্দারা যেন নিয়ম মেনে আগে থেকে যোগাযোগ করে আসেন। এর পরেই জানা যায়, ১৬ জুন সেই ‘ডিজে বিতর্ক’ মামলাতেই ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে তাঁকে।
ঘটনার কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, পরিষদীয় দলের চিঠিতে বিধায়কদের ভুয়ো স্বাক্ষর থাকার অভিযোগে এর আগে বৃহস্পতিবারই অভিষেককে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়েছিল। হাইকোর্টের রক্ষাকবজ থাকায় কঠোর পদক্ষেপ না করা হলেও তদন্তের স্বার্থে আগামী ১৪ জুন, রবিবার বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর ঠিক দু’দিন পর, ১৬ জুন মঙ্গলবার লোকসভা ভোটের প্রচারে অভিষেকের দেওয়া একটি বিতর্কিত বিবৃতির জেরে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টানা জেরার ধকলের পর এই জোড়া তলব রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। একদিকে যখন কালীঘাটের অন্দরে আদি-নবীন দ্বন্দ্বের পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই সিআইডি-র এই ব্যাক-টু-ব্যাক নোটিস তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি ও রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ বহুলাংশে বাড়িয়ে দিল।