ব্যাটম্যান গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরিয়ে তৃণমূল নেতাকে হাঁটাল পুলিশ, মগরাহাটেও ফলতা মডেল!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার পর এবার পুলিশের কড়া পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র। শুক্রবার লক্ষ্মীকান্তপুরের রাস্তায় গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেতা পঙ্কজ বরকে লুঙ্গি এবং ‘ব্যাটম্যান’ আঁকা গেঞ্জি পরিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটাল পুলিশ। অন্যদিকে, ফলতার ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকেও এদিন দ্বিতীয়বারের জন্য রাস্তায় ঘোরানো হয় এবং তিনি হাতজোড় করে এলাকাবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
এলাকায় দীর্ঘদিনের ত্রাস ও অভিযোগের পাহাড়
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিজেপিতে থাকা পঙ্কজ বর ২০২২ সালে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাস চালাতে শুরু করেন। তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মীকান্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য হলেও, বকলমে পঞ্চায়েতের সমস্ত কাজ পঙ্কজই নিয়ন্ত্রণ করতেন। অভিযোগ, প্রকৃত উপভোক্তাদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে কাটমানির বিনিময়ে অন্যদের সুযোগ পাইয়ে দিতেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানো, লুটপাট, তোলাবাজি, খুন এবং খুনের চেষ্টার মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এক স্থানীয় বাসিন্দার ওপর তাঁর বর্বরোচিত হামলায় ওই ব্যক্তির একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র মজুত রাখা-সহ মোট পাঁচটি মামলা চলছে।
জনসমক্ষে পুলিশের কড়া বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত ৯ জুন পুলিশ পঙ্কজকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতের নির্দেশে তিনদিনের হেফাজতে নেয়। মূলত লুকিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্যই এদিন তাঁকে সাধারণ মানুষের সামনে দিয়ে এলাকার রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যায় উস্তি থানার পুলিশ। বিশ্লেষকদের মতে, অভিযুক্ত দাপুটে নেতাদের জনসমক্ষে এভাবে ঘোরানোর এই ‘ফলতা মডেল’ প্রশাসনের একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ। এর ফলে বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া এই নেতাদের ভয়ের সাম্রাজ্য যেমন ভেঙে পড়ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মনে পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরছে। অপরাধীদের প্রকাশ্যে এনে এই ধরনের শাস্তি এলাকার রাজনৈতিক সন্ত্রাসের আবহে একটি কড়া হুঁশিয়ারি হিসেবেই কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।