আদালতেই ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলেন স্ত্রী! নেটপাড়ার চোখে জল এনে দিল এই ভিডিও

নয়া দিল্লি: কথায় বলে, “অহংকার আর জেদ একটা সম্পর্ককে শেষ করে দেয়, কিন্তু একটুখানি সহানুভূতি সেই সম্পর্ককেই আবার বাঁচিয়ে তুলতে পারে।” ঠিক এমনটাই এক রূপকথার মতো বাস্তব ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশের রাজধানী দিল্লি। ডিভোর্সের জন্য আদালতের দরজায় পৌঁছানো এক দম্পতির জীবনের এই অবিশ্বাস্য মোড় এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল, যা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না নেটিজেনরা।
২০২০ সালে বিয়ে হয়েছিল শিখা সিং ও সৌরভের। কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে চরম অশান্তি শুরু হয়। জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত, সৌরভের বিরুদ্ধে যৌতুক নির্যাতনের মামলাও রুজু হয়। একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে এই মামলার খরচ চালাতে গিয়ে শিখার বাবার সারাজীবনের সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে যায়। পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়।
অতীতের তিক্ততা ভুলে পাশে দাঁড়াল জামাই!
দিন দশেক আগে হঠাৎ করেই শিখার বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়। হাতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁকে একটি সরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। এই খবর পাওয়া মাত্রই অতীতের সমস্ত তিক্ততা, ক্ষোভ এবং কোর্টের মামলা একপাশে সরিয়ে রেখে হাসপাতালে ছুটে যান সৌরভ।
শ্বশুরমশাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে সৌরভ তড়িঘড়ি তাঁকে গুরুগ্রামের অত্যন্ত নামী ও ব্যয়বহুল ‘মেদান্ত’ (Medanta) কর্পোরেট হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন এবং নিজের খরচে চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করেন। সৌরভের এই সঠিক সময়ের সিদ্ধান্তের কারণেই আজ শিখার বাবা সুস্থ এবং জীবন ফিরে পেয়েছেন।
আদালত চত্বরেই আবেগঘন দৃশ্য:
এই ঘটনার কয়েকদিন পরেই ডিভোর্সের মামলার শুনানির জন্য আদালতে এসেছিলেন শিখা। সেখানে স্বামী সৌরভকে দেখামাত্রই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। চরম বিপদের দিনে সৌরভ যেভাবে শত্রুতা ভুলে তাঁর বাবার প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তা মনে করে শিখার চোখ জলে ভরে ওঠে।
পরের মুহূর্তেই ঘটে সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা! শিখা নিজের হাতে থাকা ডিভোর্সের কাগজগুলো কুচি কুচি করে ছিঁড়ে বাতাসে উড়িয়ে দেন। তারপর সোজা ছুটে গিয়ে স্বামী সৌরভকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন। আদালত চত্বরেই স্বামীর বুকে মাথা রেখে তাঁর এভাবে কেঁদে ফেলার দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত আইনজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকের চোখ ভিজে ওঠে।
নেটপাড়ায় প্রশংসার ঝড়:
আদালত চত্বরের এই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিওটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনরা এই দম্পতিকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “অহংকারের চেয়ে যে মানবিকতা অনেক বড়, এই দম্পতি তা প্রমাণ করে দিল।” আইন বা আদালত নয়, দিনশেষে যে ভালোবাসারই জয় হয়—শিখা ও সৌরভের এই গল্প যেন আরও একবার তা মনে করিয়ে দিল।